নয়ডায় গাড়ি-সহ জল জমা গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে একহাত নিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার একটি সোশাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, মানুষ রাস্তায় মরছে, ব্রিজে মরছে, আগুন পুড়ে মরছে। অপদার্থ সরকারের প্রশাসন চালানোর যোগ্যতাই নেই। এমনকী জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও মনে করে না এরা।
এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে মৃত যুবকের ছবির পাশাপাশি একাধিক সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেছেন রাহুল। সঙ্গে লিখেছেন, মানুষ "রাস্তায় মরছে, ব্রিজে মরছে, আগুনে মরছে, জলে মরছে, দূষণে মরছে, দুর্নীতিতে মরছে, বিভাজনে মরছে।" যোগ করেন, "ভারতের শহুরে জীবন ভেঙে পড়ছে প্রযুক্তি বা অন্য সমস্যার জন্য নয়। অথচ জবাবদিহির প্রয়োজন মনে করে না ওরা।"
শুক্রবার রাতে নয়ডায় ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা ৭০ ফুটের গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় যুবরাজ মেহতার। গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। রাতে অফিস থেকে নিজেই এসইউভি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যুবরাজ। তখন ঘন কুয়াশায় রাস্তায় দৃশ্যমানতা প্রায় ছিল না। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে বাঁক ঘুরতে গিয়ে বিরাট গর্তে পড়ে যায় গাড়িটি।
কাদাজল ভরা গর্তের মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে পড়ে গাড়িটি। নিজেকে বাঁচাতে দ্রুত চালকের আসন থেকে বেড়িয়ে গাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়ান যুবরাজ। কিন্তু তিনি সাঁতার জানতেন না ফলে জলে নামতে পারেননি। ওই অবস্থায় বাবাকে ফোন করে বলেন, “বাবা, আমি জল ভরা একটি গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছি। আমি ডুবে যাচ্ছি। প্লিজ, এখানে এসে আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।” যদিও গাড়িটি বেশিক্ষণ যুবরাজের ভার নিতে পারেনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।
এই ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদ্ধারকাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকশকে বরখাস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি (সিট) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
