সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিহার ভোটে বিপর্যয়ের পর আরও বড় ধাক্কা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারের জন্য। এবার গোটা পরিবারকে দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান বলে দিল আদালত। জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি মামলায় (Land For Jobs Scam) লালুপ্রসাদ যাদব, রাবড়ি দেবী, তেজস্বী, তেজপ্রতাপ যাদব, মিসা ভারতী-সহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দিল দিল্লির বিশেষ আদালত।
রেলমন্ত্রী থাকাকালীন জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল লালুপ্রসাদ যাদবের বিরুদ্ধে। সেই দুর্নীতি মামলায় এবার বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করেছে সিবিআই। সেই চার্জশিট গ্রহণ করে দিল্লির রাউস এভিনিউ কোর্টের বিচারক বিশাল গোঙ্গে বললেন, সিবিআইয়ের চার্জশিটই ইঙ্গিত দিচ্ছে লালুপ্রসাদ যাদবের গোটা পরিবার বেনিয়ম করেছে। কার্যত 'দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান' হিসাবে কাজ করেছে লালু পরিবার। এই মামলায় মোট ৯৮ জন জীবিত অভিযুক্তের মধ্যে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন বিচারক। যার ফলে লালু পরিবারের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে আর কোনও বাধা রইল না।
ঠিক কী অভিযোগ লালুর পরিবারের বিরুদ্ধে? আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব রেলমন্ত্রী থাকাকালীন অর্থাৎ ২০০৪-০৯ সময়কালে গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়া হয় রেলের নানা ক্ষেত্রে। আর সেই চাকরি দিতে ‘মূল্য’ হিসেবে নাকি লালুর পরিবারের সদস্যদের জমি দিতে হত। এই অভিযোগেই মামলা রুজু করে সিবিআই। পরবর্তী সময়ে এই মামলায় আর্থিক তছরূপের অভিযোগ সামনে আসতেই ‘এন্ট্রি’ নেয় ইডি। তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি নগদ টাকা উদ্ধার করে। এই মামলায় দুই এজেন্সির তরফে ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিবিআইয়ের মামলায় চার্জ গঠন করল দিল্লির আদালত।
যদিও, লালু, তেজস্বী এবং রাবরি দেবী সকলেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। রাবড়ি দেবীর দাবি, মামলাটি ‘ভুয়ো’। কিন্তু সিবিআইয়ের চার্জশিটের ভিত্তিতে লালু যাদব এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারার চার্জ গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ জানুয়ারি।
