অধ্যাপক, শিক্ষিকার পর এবার কোচিং সেন্টারের মালিক। নিটের প্রশ্ন ফাঁসে এবার আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল সিবিআই। জানা গিয়েছে, সাত ঘণ্টা ধরে জেরা করে মহারাষ্ট্রের লাতুরের এক কোচিং সেন্টারের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিবরাজ মোতেগাঁওকর নামে ওই কোচিং সেন্টারের মালিক 'এম স্যর' নামে রীতিমতো বিখ্যাত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শিবরাজের মোবাইল থেকে নিটের প্রশ্নপত্র মিলেছে।
সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, গত ১৪ মে শিবরাজের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীনই মোবাইল থেকে নিটের প্রশ্নপত্র মেলে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রশ্ন ফাঁসের একটি বড় দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শিবরাজ। তারা সকলে মিলে ২৩ এপ্রিল নিটের প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র সংগ্রহ করেন। সেটাই হাতে লিখে অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হত। পরীক্ষার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য এই সমস্ত প্রশ্নপত্র নষ্ট করে ফেলা হত। রবিবার অবশেষে শিবরাজকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই।
সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে মহারাষ্ট্রের পড়ুয়ারা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান দখল করে আসছে। সেখানে শিবরাজের কোচিং সেন্টারের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলেই তদন্তকারীদের অনুমান।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের শিক্ষাক্ষেত্রে শিবরাজের ব্যাপক জনপ্রিয়তা। 'এম স্যর' বলে একডাকে তাঁকে চেনে সকলে। ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৬৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। লাতুরের এক কৃষক পরিবারের সন্তান শিবরাজের কেরিয়ার শুরু হয় গৃহশিক্ষক হিসাবে। সাইকেলে চেপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াতেন। তারপর একটি ঘরভাড়া নিয়ে শুরু করেন কোচিং সেন্টারের যাত্রা। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠা করেন আরসিসি ক্লাসেস নামে বিখ্যাত কোচিং সেন্টার। প্রত্যেক বছর অন্তত ৪০ হাজার পড়ুয়া এই সেন্টারে ভর্তি হন।
সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে মহারাষ্ট্রের পড়ুয়ারা ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান দখল করে আসছে। সেখানে শিবরাজের কোচিং সেন্টারের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। ইতিমধ্যেই পিভি কুলকার্নি নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। তিনি পড়াতেন শিবরাজের কোচিং সেন্টারে। এছাড়াও মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে নামে এক অধ্যাপিকাকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের অনুমান, বিরাট অর্থের বিনিময়ে এই কোচিং সেন্টার এবং শিক্ষকদের হাতে পৌঁছে যেত নিটের প্রশ্নপত্র। সেই প্রশ্ন অর্থের বিনিময়ে পৌঁছে যেত পড়ুয়াদের হাতে।
