জল বোর্ডের খুঁড়ে রাখা গর্তে পড়ে বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় দিল্লি। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ধৃতের নাম রাজেশ প্রজাপতি। তিনি দিল্লি জল বোর্ডের সাব-কন্ট্রাক্টর। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান সংগ্রহ করে পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লির জনকপুরীতে পাইপলাইনের কাজের জন্য খোঁড়া গর্তে বাইক আরোহী পড়ে যাওয়ার ঘটনা জানানো হয়েছিল দায়িত্বে থাকা এক ঠিকাদারকে। কিন্তু যুবককে বাঁচাতে তিনি কোনও পদক্ষেপই করেননি।
কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই গর্তে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বছর পঁচিশের যুবক কমল ধ্যানীর। অনেক রাত পর্যন্ত তিনি না পৌঁছোনোয় পরিবারের সদস্যেরা বিভিন্ন থানায় খবর দেন। শুক্রবার সকালে পশ্চিম দিল্লির জনকপুরী এলাকায় কমলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় প্রবল আক্রমণের মুখে পড়েছে দিল্লির বিজেপি সরকার। মৃতের পরিবারও দিল্লি জল বোর্ডকে দায়ী করেছে। তাদের অনুমান, কমলকে হত্যা করেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের উদাসীনতায় সাম্প্রতিক অতীতেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে। কিন্তু তাতেও তাদের সম্বিত ফেরেনি। দিল্লি সরকারকে আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রশ্ন উঠেছে, এক যুবকের দেহ কী ভাবে সারারাত পড়ে থাকল এবং পুলিশ আরও আগে তাঁকে উদ্ধার করতে পারল না?
কমলের বাড়ি কৈলাসপুরীতে। তিনি রোহিনীর একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের কল সেন্টারে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে সেখান থেকেই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, তাঁদের সঙ্গে একটা সময় পর্যন্ত কমলের যোগাযাগ ছিল। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে আর যোগাযোগ করা যায়নি। গভীর রাত পর্যন্ত কমল না ফেরায় তাঁর খোঁজ শুরু করেন তাঁরা। খবর দেন জনকপুরী, সাগরপুর, বিকাশপুরী এবং রোহিনী থানায়। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁদের জানানো হয়, কমলের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।
জনকপুরী থানা জানিয়েছে, সকাল ৭টায় তাদের কাছে ঘটনাস্থল থেকে খবর এসেছিল। স্থানীয়দের বক্তব্য, জনকপুরীর ওই জায়গায় রাস্তা সারাইয়ের কাজ চলছে। তার জন্য গভীর গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে এলাকাটি বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে।
