উত্তরপ্রদেশের পরিকাঠামো ও সংযোগ ব্যবস্থায় আমূল বদল আনতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ করতে হবে ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। লখনউয়ে নিজের বাসভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণমান বজায় রেখে প্রকল্প শেষ করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
যোগী আদিত্যনাথের মতে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে রাজ্যের ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে যাবে। এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন ৫০০টিরও বেশি গ্রামের মানুষ। রাজ্যের শিল্প, কৃষি ও লজিস্টিক ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হয়ে উঠতে চলেছে এই এক্সপ্রেসওয়ে।
বৈঠকে মধ্য গঙ্গা খাল (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং এরিচ সেচ প্রকল্পের কাজ নিয়েও পর্যালোচনা হয়। অমরাহা, মোরাদাবাদ এবং সম্বল জেলার চাষিরা এর ফলে বিশেষ সুবিধা পাবেন। বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে জল সংরক্ষণ ও পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে এরিচ প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। অসম্পূর্ণ কাজগুলি দ্রুত শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা জেওয়ার বিমানবন্দরকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখছে যোগী সরকার। তৃতীয় পর্যায়ের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর পাশাপাশি গ্রেটার নয়ডায় মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব ও লজিস্টিক হাব তৈরির কাজও দ্রুত করার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং উত্তরপ্রদেশ পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে 'মুখ্যমন্ত্রী মডেল কম্পোজিট স্কুল' প্রকল্পের আওতায় ৭৫টি জেলায় ১৫০টি আধুনিক স্কুল তৈরি হবে। বিজ্ঞান গবেষণাগার থেকে ডিজিটাল লার্নিং— সব সুবিধা থাকবে সেখানে। পাশাপাশি বাহরাইচ-শ্রাবস্তী-বলরামপুর-সিদ্ধার্থনগর রেললাইন প্রকল্পের জন্য জেলাশাসকদের দ্রুত জমি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির আদলে চিল্লা এলিভেটেড ফ্লাইওভার তৈরির কাজেও গতি আনার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আদিত্যনাথের কথায়, "উত্তরপ্রদেশের উন্নয়ন মানে কেবল নির্মাণ নয়, মানুষের উপকারে আসা প্রকল্পগুলির সঠিক বাস্তবায়ন।"
