পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতবাসীর হেঁসেলে। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম বাড়াতে হয়েছে। গ্যাসের সংকটও উপেক্ষা করার মতো নয়। তবে পেট্রল-ডিজেলের দামে এখনও হাত পড়েনি। উলটে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার।
কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি একেবারেই তেমন নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কার্যত গোটা বিশ্বের জ্বালানির বাজারেই পড়েছে। আর সেটার খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকেই। একাধিক প্রথম সারির দেশেও পেট্রল ও ডিজেলের দাম অনেকটা বেড়েছে। ভারতের অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশের অবস্থাও তথৈবচ। অন্তত তথ্য সেকথাই বলছে।
বিভিন্ন দেশে গ্যাসের দাম। প্রতিদিন গ্রাফিক্স।
হিসাব বলছে যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকাতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃদ্ধিটা সর্বোচ্চ। সেদেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো প্রথম সারির দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ১৭ ও ১০ শতাংশ। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১৭ শতাংশ। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া সব দেশই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে যেমন প্রায় ৩৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। চিনে বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। পাকিস্তানে যুদ্ধের পর বৃদ্ধি ২৫ শতাংশ।
সে তুলনায় ভারতের বাজারে প্রভাব অনেকটাই কম। ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও, নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সেই হরমুজ এখন ভারতের জন্য উন্মুক্ত। তবে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তেমন নয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। যা কার্যত বন্ধ। ফলে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। সেটারই প্রভাব পড়ছে জ্বালানিতে।
