মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব যাতে সরাসরি ভারতের জ্বালানির বাজারে না পড়ে সেটা সুনিশ্চিত করতে পেট্রল-ডিজেলে (Petrol Diesel Price) একধাক্কায় অন্তঃশুল্ক অনেকটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আসলে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে সরাসরি পেট্রল-ডিজেলের উপর না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতেই ওই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই শুল্ক কমানোর প্রভাব সম্ভবত সরাসরি খোলাবাজারে পড়বে না। অর্থাৎ শুল্কহ্রাসের সুফল আমজনতা পাবে না।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী-সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠকে বলে দেন, কোনওভাবেই যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব ভারতের বাজারে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তারপরই অন্তঃশুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত। পেট্রল ও ডিজেলের উপর শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা করে। এর ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে লিটার প্রতি শুল্ক কমে হল ৩ টাকা, অন্যদিকে ডিজেলের উপর কোনও শুল্কই রইল না।
প্রশ্ন হল, এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কতটা উপকৃত হবে আমজনতা? ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই শুল্ক হ্রাসের ফলে অধিকাংশ ভোক্তার জন্য জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা কম। বাজারে পেট্রল-ডিজেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে ইন্ডিয়ান ওয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। এতদিন বিশ্ববাজার থেকে অতিরিক্ত দামে কেনা তেল সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে পুরনো দামেই বিক্রি করছিল এই সংস্থাগুলি। যার ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল তাদের। সরকারের শুল্কহ্রাসের সিদ্ধান্ত মূলত এই সংস্থাগুলির লোকসান পুষিয়ে দেওয়ার জন্য। ফলে আমজনতা এর সুবিধা পাবে না।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়ায়েছে। এই অবস্থায় দেশের জ্বালানি বিপণন সংস্থাগুলো (ওএমসি) বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলে ৪৮.৮ টাকা করে লোকসান করছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এবার কেন্দ্রের শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত সেই ক্ষতিই পুষিয়ে নেবে তারা।
