পরীক্ষানিরীক্ষা হওয়া দেশের প্রায় ৭৫০ বিমানের মধ্যে প্রায় ৪০০ বিমানেই ধরা পড়ল যান্ত্রিক ত্রুটি! বৃহস্পতিবার লোকসভায় রিপোর্ট দিয়ে একথাই জানিয়েছে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। কেন্দ্র জানিয়েছে, যে যে বিমান সংস্থার বিমানে ত্রুটি ধরা পড়েছে, সেই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো।
কেন্দ্র জানিয়েছে, গত বছর জানুয়ারি মাসে এই পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়েছে। ছ'টি বিমান সংস্থার মোট ৭৫৪টি বিমানে এই পরীক্ষা চলেছে এখনও পর্যন্ত। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, তার মধ্যে ৩৭৭টি বিমানে এমন সব ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা বারবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও পুরোপুরি মেরামত করা যায়নি। কিংবা মেরামত করা হলেও সেই ত্রুটি আবার দেখা গিয়েছে পরে। এতে স্বাভাবিক ভাবে বিমানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দেশে ইন্ডিগোর বিমানের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সংস্থারই ৪০৫টি বিমান পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়েছে ১৪৮টিতে। অর্থার্ৎ প্রায় ৩৬ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে ইন্ডিগো শীর্ষে থাকলেও, শতাংশের বিচারে এগিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া। তাদের ২৬৭টি বিমানের পরীক্ষা হয়েছিল। তার মধ্যে ত্রুটি ধরা পড়েছে ১৯১টিতে। অর্থাৎ, ৭২ শতাংশ। তালিকায় রয়েছে স্পাইসজেট এবং আকাসা সংস্থারও বিমান।
তবে এই যান্ত্রিক ত্রুটি মানেই যে সবক'টি বিমান 'বিপজ্জনক', তা নয়। বিমানের কোনও আসন ভাঙা থাকলে, তা-ও এই ত্রুটির মধ্যেই পড়ে। কোন ত্রুটি কতটা বিপজ্জনক, তা বিচার করে চার তালিকাও তৈরি করেছে কেন্দ্র। একেবারে সামান্য ত্রুটিকে শেষের তালিকায় রাখা হয়েছে। সেই তালিকাতেই ভাঙা আসনের সমস্যা বা খারাপ টিভি স্ক্রিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাদের বিমানে ধরা পড়া অধিকাংশ ত্রুটিই এই তালিকাভুক্ত। সংস্থার এক আধিকারিকের বক্তব্য, "এতে বিমান দুর্ঘটনার কোনও সম্ভাবনা নেই।" কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। তা হল, বারবার ত্রুটি ধরা পড়লেও কেন তার স্থায়ী সমাধান করছে বিমান সংস্থাগুলি?
