shono
Advertisement
Netaji Subhas Bose

বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি নেতাজির, ১৯৫৬ সালে তাইওয়ানের তদন্ত রিপোর্ট গেল রাষ্ট্রপতির দপ্তরে

হঠাৎ কোন প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হল রিপোর্ট?
Published By: Amit Kumar DasPosted: 01:37 PM Jan 07, 2026Updated: 02:21 PM Jan 07, 2026

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: জাপানের রেনকোজি মন্দিরের চিতাভস্ম নেতাজির বলে দাবি করে তা ফেরানোর জন‌্য ভারত সরকারের কাছে একাধিক আবেদন এসেছে। যাকে চলতি স্রোতে গা ভাসানো বলে কটাক্ষও করছেন দেশের অধিকাংশ গবেষক ও লেখক। এই পর্বেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দপ্তরে জমা পড়ল ১৯৫৬ সালের তাইওয়ান রিপোর্ট। সেখানকার তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু তো দূর, ১৯৪৫-এর ১৮ আগস্ট সেখানে কোনও বিমান দুর্ঘটনাই ঘটেনি বলে বিশ্বের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ হয়ে জ্বলজ্বল করছে যে রিপোর্ট। রিপোর্টটি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এনেছেন এই রাজ্যের দুই গবেষক সৈকত নিয়োগী ও সৌম‌‌্যব্রত দাশগুপ্ত। কিন্তু হঠাৎ কোন প্রেক্ষিতে সেই রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালেন তাঁরা!

Advertisement

নিজেকে নেতাজির তথাকথিত কন‌্যা বলে দাবি করা অনিতা পাফ গত বছরই ভারত সরকারের কাছে চিঠি লিখে আবেদন করেছিলেন যাতে রেনকোজির চিতাভস্ম দেশে ফেরানো যায়। ওই চিতাভস্ম নেতাজির বলে দাবি ছিল তাঁর। সেই একই দাবিতে সরব হয়ে বসু পরিবারের আরেক সদস‌্য চন্দ্র বসু সদ‌্য রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে আবেদন করেছেন, এবার ২৩ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মদিনের আগেই যাতে রেনকোজি মন্দিরে রাখা ‘নেতাজির চিতাভস্ম’ ফেরানো যায় সেই ব‌্যবস্থা করা হোক। সেই খবর সামনে আসতেই ‘প্রমাণিত সত‌্য’ হিসাবে তাইওয়ান রিপোর্টের কপি সটান রাষ্ট্রপতি ভবন পাঠিয়ে দিয়েছেন সৈকত-সৌম‌্যরা। মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও তার কপি পাঠিয়েছেন যুগলে।

ঘটনাচক্রে এই চন্দ্র বসুর সঙ্গে এই কলকাতা শহরেই তঁাদের এ নিয়ে একদফা আলোচনাও হয়েছে। সুভাষচন্দ্র বসুর দাদা শরৎচন্দ্র বসুর নাতি চন্দ্র বসু। প্রাক্তন এই বিজেপি নেতা চন্দ্রের দৃঢ় বিশ্বাস, রেনকোজির ওই চিতাভস্ম সুভাষচন্দ্রেরই। সৈকতদের সঙ্গে আলোচনায় কয়েক মাস আগেই নিজের সেই বিশ্বাস ও একাধিক তত্ত্বের কথা তুলে চন্দ্র এ-ও জানান, ১৮ আগস্ট ১৯৪৫ সালেই যে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নেতাজির তার তথাকথিত ‘প্রামাণ‌্য নথি’ রয়েছে। তখনই পাল্টা তাইওয়ান রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে সৌম‌্য ও সৈকতরা জানিয়ে দেন, যে দেশে এই দুর্ঘটনা বলে দাবি করা হয়, ব্রিটিশ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে তৈরি সেই দেশেরই গোয়েন্দা রিপোর্ট জানায়, ওই সালে ওই তারিখে কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি। ১৯৫৬ সালের সেই রিপোর্ট এতদিন পর্যন্ত ভারত সরকার উদ্ধারে সচেষ্ট না হলেও ব্রিটিশ সরকারের আর্কাইভে তা এতদিন ধরে রক্ষিত ছিল। সেই রিপোর্টই উদ্ধার করে এনেছেন কলকাতার দুই গবেষক। হাতে-গরম প্রমাণ পেয়ে আর সে সময় কথা বাড়াননি চন্দ্র বসু। শুধু তাইওয়ান রিপোর্টটি দেখতে চেয়েছিলেন। সেটি তাঁকে পাঠানোও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন দুই গবেষক। তার পর আর কথা না এগোলেও আচমকাই জানা যায় চন্দ্র বসু রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে সেই পুরনো দাবিই করেছেন।

সৈকতের কথায়, “আমরা বাধ‌্য হলাম সত্যিটা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে জানাতে। নেতাজিকে নিয়ে একটা ভুল দাবির ভিত্তিতে অন‌্য কারও চিতাভস্ম এনে নেতাজির বলে চালানোর স্পষ্ট ষড়যন্ত্র চলছে নানা মহলে। অথচ সামনে তাইওয়ান রিপোর্ট পড়ে রয়েছে। সেটি নিয়ে কারও কোনও হেলদোল নেই।” সৌম‌্যর কথায়, “নেতাজিকে নিয়ে কোনও তথ‌্য বা কোনও তত্ত্ব না পাওয়া গেলে কিছু বলার ছিল না। কিন্তু যেখানে একটা প্রমাণিত তথ‌্য সত্যের চেহারায় সকলের সামনে, সেখানে পাল্টা একটা মিথ‌্যা দাবি নিয়ে মাতামাতি চলবে, পরপর ষড়যন্ত্র হয়ে যাবে, আর আমরা বসে বসে দেখব, এটা হতে পারে না।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দপ্তরে জমা পড়ল ১৯৫৬ সালের তাইওয়ান রিপোর্ট।
  • বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু তো দূর, ১৯৪৫-এর ১৮ আগস্ট কোনও বিমান দুর্ঘটনাই ঘটেনি বলে বলছে রিপোর্ট।
  • রিপোর্টটি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এনেছেন এই রাজ্যের দুই গবেষক সৈকত নিয়োগী ও সৌম‌‌্যব্রত দাশগুপ্ত।
Advertisement