“এখন আর দাঙ্গা হয় না। কার্ফুও নেই। উত্তরপ্রদেশে এখন শুধুই উন্নয়নের জোয়ার।” শুক্রবার হরিদ্বারের এক সন্ত সম্মেলনে এ ভাবেই নিজের রাজ্যের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, এক সময়ের ‘বিমারু’ রাজ্য আজ ভারতের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ।
এ দিন হরিদ্বারে এক আধ্যাত্মিক সমাবেশে যোগ দিয়ে মেজাজি রূপেই ধরা দেন যোগী। তাঁর বক্তৃতায় বারবার উঠে আসে উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির কথা। জনসভার ভিড় লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “না কার্ফু, না দাঙ্গা, ইউপি মে সব চাঙ্গা।” অর্থাৎ, দাঙ্গা আর কার্ফুর দিন পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশ এখন শান্ত ও স্থিতিশীল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত কয়েক বছরে তাঁর সরকার রাজ্যের গুন্ডারাজ সমূলে নির্মূল করেছে। অপরাধীদের মনে এখন আইনের ভয় তৈরি হয়েছে।
যোগী এদিন শুধু উন্নয়নের কথা বলেই থেমে থাকেননি, তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে কড়া হিন্দুত্বের সুরও। তিনি বলেন, “ভারত কেবল মাটির টুকরো নয়। এটি ঋষি-মুনিদের তপোভূমি। উত্তরপ্রদেশ আজ সেই সনাতন ঐতিহ্যের ধারক।” বদ্রীনাথ এবং কেদারনাথের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই ধামগুলি কেবল আস্থার কেন্দ্র নয়, এগুলি জাতীয় চেতনার প্রাণকেন্দ্র।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বিরোধীদেরও একহাত নেন। তাঁর মতে, আগে উত্তরপ্রদেশকে অবহেলার চোখে দেখা হত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আধ্যাত্মিক পর্যটনকেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ দিন গেরুয়া বসনধারী মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু সাধু-সন্ত ও সাধারণ মানুষ। উত্তরাখণ্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের সরকারের সাফল্যের এই প্রচার আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যোগী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামীর উত্তরপ্রদেশ হবে দাঙ্গামুক্ত এবং প্রগতিশীল এক আধুনিক রাজ্য।
