প্রেম দিবসেই চরম পরিণতি ১৫ বছরের সম্পর্কে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার গুলিবিদ্ধ যুগলের দেহ। শনিবার দুপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের নয়ডার ১০৭ সেক্টরে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এল হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ। খুনের কয়েক ঘণ্টা আগে সেই মেসেজ লিখেছিলেন প্রেমিক সুমিত। সেই মেসেজের সূত্র ধরেই রহস্য উদ্ঘাটনে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার নয়ডার দাদরি রোডের ধারে একটি গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। উঁকি দিতেই দেখা যায়, ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দুটি মৃতদেহ। মৃতরা হলেন ৩২ বছরের সুমিত ও তাঁর ২৬ বছরের বান্ধবী রেখা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ছিল আত্মহত্যা করেছেন ওই যুগল। তবে মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে সুমিতের ফোনের একটি হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ। যেখানে লেখা, "নিজেকে শেষ করতে চলেছি। আর আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী রেখা। ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল আমাদের। ও কথা দিয়েছিল আমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু এখন অন্য জনকে বিয়ে করতে চলেছে। আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে ও। আমি এটা কোনওভাবেই মানতে পারছি না।" জানা যায়, মৃত্যুর আগে এটাই শেষ মেসেজ ছিল সুমিতের। ফলে সন্দেহ করা হয়, হয়ত প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন সুমিত। তবে এই মেসেজ কাউকে পাঠানো হয়েছিল না কি ড্রাফট হিসেবে রয়ে গিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রেখার ভাইয়ের দাবি, সুমিত ভিন্ন জাতের হওয়ায় রেখার অন্যত্র বিয়ের ঠিক করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর গত কয়েকমাস ধরে ওদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।
এদিকে মৃতদের পরিবারের দাবি, দু'জনকেই খুন করা হয়েছে। সুমিতের এক খুড়তুতো ভাই বলেন, দুই পরিবারই এঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল। অন্যদিকে রেখার পরিবার সুমিতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তাঁদের অভিযোগ, সুমিত রেখাকে হেনস্থা করত। এই নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। পড়ে বিষয়টি মিতিয়ে নেওয়া হয়। রেখার ভাইয়ের দাবি, সুমিত ভিন্ন জাতের হওয়ায় রেখার অন্যত্র বিয়ের ঠিক করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর গত কয়েকমাস ধরে ওদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।
গোটা ঘটনার তদন্তে নেমে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশের জানিয়েছে, যেখানে এই ঘটনা ঘটে তার আশপাশে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ফলে তথ্য সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। তবে কোন পথ ধরে গাড়িটি এসেছিল, আশপাশের রাস্তাগুলির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
