মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং, অন্যান্য কারিগরি শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষণ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করল ওড়িশার বিজেপি সরকার। শনিবার গভীর রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে ওই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। তাঁর ওই সিদ্ধান্তে সঙ্গী হচ্ছে বিতর্কও।
ওড়িশা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের জনসংখ্যার নিরিখে সংরক্ষণ চালু করা হবে। এতদিন ওড়িশায় মেডিক্যাল-সহ অন্যান্য উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে মোট আসনের ১২ শতাংশ সংরক্ষণ চালু ছিল। এবার সেটা বেড়ে হচ্ছে ২২ শতাংশ। তফসিলি জাতির সংরক্ষণ ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৬.২৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, এবার থেকে রাজ্যের ওবিসিরাও ১১.২৫ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যের তফসিলি উপজাতি জনসংখ্যা ২২ শতাংশেরও বেশি। অথচ এতদিন পর্যন্ত মাত্র ১২ শতাংশ সংরক্ষণ পেতেন আদিবাসীরা। একইভাবে তফসিলি জাতির সংরক্ষণ ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। মোহনচরণ মাঝি বলছেন, "আমরা জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংরক্ষণ চালু করতে চেয়েছিলাম।" রাজ্যে এবার থেকে প্রতিবছর ৫৪৫ জন আদিবাসী পড়ুয়া ডাক্তার হতে পারবেন।
কিন্তু ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট জাত ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সমাজের বহু স্তরেও এ নিয়ে বিরোধিতার স্বর শোনা যায়। এসবের মধ্যে নতুন করে সংরক্ষণ চালু করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাছাড়া মেডিক্যালের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সংরক্ষণ চালু করাটা কি মানুষের জীবনকে সংশয়ে ঠেলে দেওয়া নয়। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নিষেধ অনুযায়ী, কোনওভাবেই সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে না। ওড়িশার নতুন এই সংরক্ষণ পদ্ধতি ৫০ ছুঁয়ে ফেলল।
