পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা দুই প্রধান শিবিরেই। এনডিএ এবং ইন্ডিয়া দুই জোটেই ভাঙন ও নতুন করে মেরুকরণের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের প্রধান শরিক অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস আর বিজেপির মধ্যে সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী বিজেপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এড়াতে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মন্দির দর্শনে ব্যস্ত রয়েছেন। মোদির সঙ্গে বৈঠক সেরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য পুদুচেরিতে অপেক্ষা করলেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। সংবাদ সংস্থার খবর, রঙ্গস্বামী জোট টিকিয়ে রাখতে দু'টি প্রধান শর্ত দিয়েছেন-পুদুচেরিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে লিখিত আশ্বাস দিতে হবে। লটারি ব্যবসায়ী মার্টিনের ছেলে জোস চার্লস মার্টিনের দল এলজেকিকি-কে জোটের বাইরে রাখতে হবে। অন্য একটি বিষয়েও জল্পনা তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, রঙ্গস্বামী বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে অথবা ডিএমকে-র সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে আসরে নামতে হয়েছে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। তিনি নিজে এনআর রঙ্গস্বামীকে ফোন করে জোট জটিলতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাতে সাফল্যও মিলেছে। সূত্রের দাবি, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় রাজি রঙ্গস্বামী। বিজেপি অবশ্য তাঁর ওই দুটি দাবির একটিও মেনে নেওয়ার আশ্বাস এখনও দেয়নি। তবে সেগুলি নিয়ে আলোচনার দাবি মেনে নিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অথৈ জলে।
একই পরিস্থিতি ইন্ডিয়া জোটেও। সেখানেও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। ডিএমকে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি আসন (১৮টি) দাবি করছে, যা কংগ্রেসের কাছে বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, কংগ্রেস ১৭টি আসনে লড়াই করতে চায়। আবার তামিলনাড়ুর আদলে পুদুচেরিতেও জোটের নেতৃত্ব দিতে চাইছে ডিএমকে। কিন্তু কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ছাড়তে নারাজ। পুদুচেরির ৩০টি বিধানসভা আসনের জন্য নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সময় এগিয়ে আসায় দলগুলি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে, যার ফলে পুদুচেরির রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
