রক্ষকই ভক্ষক হয়ে উঠলেন! ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে স্থানীয় থানায় গিয়েছিলেন তরুণী। ভেবেছিলেন ন্যায় বিচার পাবেন। কিন্তু দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীও কুপ্রস্তাব দিলেন! নির্যাতিতা অভিযোগ করেছেন, ওই পুলিশকর্মী তাঁকে বলেন, তাঁর সঙ্গে হোটেলে সময় কাটালে তবেই এফআইআর নেবেন। শয্যাসঙ্গী হলে তার পর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই যোগী সরকারের অপশাসন নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিগড়ের একটি থানায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ করতে চেয়েছিলেন তরুণী। যদিও প্রথমদিন অভিযোগ নেননি কনস্টেবল। অভিযোগ, এর পর তরুণী ও তাঁর প্রেমিক সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেন। কুপ্রস্তাব দেন---‘ধর্ষক’কে শাস্তি দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে শয্যাসঙ্গিনী হতে বলেন ওই পুলিশকর্মী।
এখানেই শেষ নয়, পুলিশকর্মী নির্যাতিতাকে হুমকি দেন। তাঁর প্রস্তাব পাঁচ কান করলে উলটো ফল হবে।
অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এনেছেন নির্যাতিতা (অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল)। অডিও ক্লিপে শোনা গিয়েছে পুলিশকর্মী বলছেন, ‘‘সব শুনব, তুমি তোমার একটা আকর্ষণীয় ছবি তুলে আমাকে পাঠাও। ইদে উপহার দেব।’’ এর পরই বলেন, ‘আমার সঙ্গে একটা রাত কাটাও। হোটেলে যাই চলো। কোনও সমস্যা হবে না। তার পর ওকে (ধর্ষক) আমি জেলে পাঠাবই। দেখো, কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়।’’
এখানেই শেষ নয়, পুলিশকর্মী নির্যাতিতাকে হুমকি দেন। তাঁর প্রস্তাব পাঁচ কান করলে উলটো ফল হবে। বিচার তো মিলবেই না। এমনকী নির্যাতিতাকেই জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন তিনি। ওই অডিয় ক্লিপ এবং অন্যান্য প্রমাণের সাপেক্ষে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়সড় পদক্ষেপ করা হবে।
