পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটে জট ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে। ভোটের আগে কেরলে বিবদমান দুই কংগ্রেস আর সিপিএম আবার ইন্ডিয়া জোটের শরিক। প্রচারের সময় রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের অন্য নেতাদের নানা মন্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ বামেরা। গত ৮ জুন যে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকের আগে জোটের অন্য শরিকদের কড়া চিঠি দিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিপিএম। সেই প্রশ্নের জবাব রাহুল দিয়েছেন জোটের বৈঠকেই।
প্রবীণ সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাটও কংগ্রেস নেতার মন্তব্যে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। বৃন্দার বক্তব্য, "আমাদের কমিউনিস্টদের আলিঙ্গন দরকার নেই। কিন্তু বিরোধী দলনেতা হিসাবে অন্য বিরোধী নেতাদের সম্মান দিয়ে কথা বলুন।"
আসল ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী ঠিক কী বলেছিলেন, সেটা পুরোপুরি প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। সেই বক্তব্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা সাফ বলে দেন, "দেখুন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে। কিন্তু আপনারা যদি আমাকে বলেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে হবে, তাহলে আমি পারব না। আমি সেটা করবও না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধেও আমার রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে।" রাহুলের সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনায় সরব সিপিএম।
লোকসভার বিরোধী দলনেতার ওই মন্তব্য নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজয়ন নিজে। তিনি বলছেন, "আলিঙ্গনের দরকার আমাদের নেই। রাহুলের সঙ্গে আমার তেমন পরিচয়ও নেই। যেটুকু আছে সেটা করমর্দন পর্যন্ত সীমিত। আলিঙ্গন না করাটা আমার সমস্যা নয়। আমার সমস্যা হল রাজনৈতিক বার্তা। এতেই বোঝা যায় ইন্ডিয়া জোট নিয়ে রাহুল কী ভাবেন।" প্রবীণ সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাটও কংগ্রেস নেতার মন্তব্যে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। বৃন্দার বক্তব্য, "আমাদের কমিউনিস্টদের আলিঙ্গন দরকার নেই। কিন্তু বিরোধী দলনেতা হিসাবে অন্য বিরোধী নেতাদের সম্মান দিয়ে কথা বলুন।"
বিজেপি বলছে, কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতাদের এই পরস্পর বিরোধী মন্তব্যগুলিই ইন্ডিয়া জোটের স্ববিরোধিতাকে গোটা দেশের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুণাওয়ালা বলেছেন, "এতেই স্পষ্ট ইন্ডিয়া জোট শুধু খাতায় কলমেই রয়েছে। কার্যক্ষেত্রে কিছু নেই। হয়তো ছবি তোলার জন্য ওরা বৈঠক করে। কিন্তু সেটা কাজের কাজ নয়।"
