তিনি ‘পলটুরাম’। গদি বাঁচাতে তিনি নাকি যে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন। কিন্তু সব কিছুই একদিন শেষ হয়। দুই দশক পরে বিহারে শেষ হচ্ছে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) জমানা। শুক্রবার তিনি দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিতে। সূত্রের দাবি, ১৪ এপ্রিল তিনি ইস্তফা দেবেন মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে। আর তারপরই বিহারের মসনদে দেখা যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরিকেই (Samrat Choudhary) বেছে নেওয়া হবে ওই পদের জন্য, এমনটাই দাবি। তিনিও নাকি দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে।
এর আগে শোনা গিয়েছিল, নীতীশপুত্র নিশান্ত নাকি হতে পারেন বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্টই হয়ে গিয়েছিল সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বরং জোরালো হয়ে উঠতে থাকে সম্রাটের নাম। বিজেপি বিধায়ক গত দু’বছর ধরে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। মাত্র ৯ বছর আগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এবার তাঁকেই বিহারের মসনদে বসাতে চলেছে গেরুয়া শিবির। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত পাটলিপুত্রে বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেননি। এবার সম্ভবত সেই অধরা স্বপ্নপূরণ হবে। সেই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে নিশান্তকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে।
এদিকে নীতীশের মতোই বিহারের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে জেডিইউ। সদ্য বিহারে যে রাজ্যসভা নির্বাচন হয়েছে তাতে কংগ্রেসের ৬ বিধায়কের ৩ জন বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা এবার সোজা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। আসলে কংগ্রেস বিধানসভায় মাত্র ৬ আসন জেতার পর এতটাই বিমর্ষ যে, বিধায়ক দলের নেতা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারেনি। ফলে কংগ্রেসের কোনও বিধায়ক যদি দলবদল করেন, তাহলে দলত্যাগবিরোধী আইনে পড়তে হবে না।
স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত পাটলিপুত্রে বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেননি। এবার সম্ভবত সেই অধরা স্বপ্নপূরণ হবে। সেই সঙ্গে শোনা যাচ্ছে নিশান্তকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে।
শোনা যাচ্ছে, এই সুযোগ নিয়ে শুধু ওই ৩ বিধায়ক নয়, আরও একজন কংগ্রেস বিধায়ক সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখাতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিজেপির জেডিইউ নির্ভরতা আরও অনেকটা কমে যাবে। এমনকী তেমন পরিস্থিতি হলে জেডিইউকে ছুড়ে ফেলে দিয়েও সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে গেরুয়া শিবির।
