শশী থারুর কী চান? সেই প্রশ্নের জবাব হয়তো কেউই জানেন না। কখনও কংগ্রেসের সভায় না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুণকীর্তন করেন। আবার কখনও বা সটান চলে যান রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে। দিনকয়েক পরেই কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শশীর গতিবিধিতে বাড়ছে রহস্য। তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ কি দলবদল করবেন? নাকি পুরনো দলেই থেকে যাবেন, সেই রহস্য ক্রমেই দুর্বোধ্য হয়ে উঠছে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি পৌঁছেছেন শশী। পার্লামেন্ট হাউসেই তিনি দেখা করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে। কেরলের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের অঙ্ক মাথায় রেখে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সদ্যই কেরল সফরে গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানে কেরল কংগ্রেসের সব শীর্ষ নেতাই কমবেশি গুরুত্ব পেয়েছেন। কিন্তু চারবারের সাংসদ তথা রাজ্য কংগ্রেসের জনপ্রিয় মুখ শশী কোনও কর্মসূচিতেই ডাক পাননি। তাতেই থারুর অপমানিত বোধ করছেন।
সেই ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবারের সাক্ষাৎ। জানা গিয়েছে, দলের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা কথা বলেছেন শশী। মূলত নিজের মতামত এবং দলের প্রতি ক্ষোভ নিয়ে ওই বৈঠকে কথা বলেছেন সাংসদ, এমনটাই জানা গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ রয়েছে জনমানসে, সেগুলোও তুলে ধরেছেন শশী। নির্বাচনের আগে কী কী সমস্যা মেটাতে হবে কংগ্রেসকে, সেটার তালিকাও তুলে দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্বের হাতে।
উল্লেখ্য, থারুর বহুদিন ধরেই বেসুরো। দলের একাধিক বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন তিনি। অপারেশন সিঁদুরের পর বিদেশে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল দলের আপত্তি সত্ত্বেও তাতে গিয়েছিলেন তিরঅনন্তপুরমের সাংসদ। আবার ইদানিং কংগ্রেসের বৈঠকেও তিনি থাকেন না। শুধু তাই নয়, দলের বৈঠকে গরহাজির থেকে তিনি গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ শুনতে। সেবার মোদির ভাষণের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কেরলের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন থারুর। গুঞ্জনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাহুল-খাড়গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন থারুর। শেষ পর্যন্ত কোনদিকে ঝুঁকবেন তিনি?
