সরকারি কাজের বরাত দিয়েছেন নিজের পরিবারের সদস্যদেরই! দশ বছর ধরে অন্তত ১২৭০ কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দিয়েছেন পরিবারের সংস্থাকে! অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর (Pema Khandu) বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেই অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে।
২০১৬ সাল থেকে অরুণাচলে রয়েছে বিজেপি সরকার। কংগ্রেস থেকে একদল বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে সে বছর রাতারাতি মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসে যান পেমা। তারপর থেকে তিনিই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে। অভিযোগ, এই সুযোগ নিয়ে সে রাজ্যে দেদার দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণ চলছে সে রাজ্যে। সমস্ত সরকারি কাজের বরাত পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়রা। এমনকী বেশ কিছু চুক্তি গিয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিভিন্ন সংস্থার হাতে। গত দশ বছরে নিজের এবং স্ত্রীর পরিবারের সংস্থাগুলিকে অন্তত ১২৭০ কোটি টাকার বরাত দিয়েছেন পেমা, এমনটাই অভিযোগ।
সোমবার এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট। তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, দু'সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে হবে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত যা সরকারি বরাত দেওয়া হয়েছে, সেসমস্তই আনতে হবে তদন্তের আওতায়। টেন্ডার দেওয়া, প্রকল্পের কাজ কেমন হয়েছে এবং কীভাবে আর্থিক লেনদেন হয়েছে-সমস্ত নিয়েই তদন্ত করতে হবে। ১৬ সপ্তাহের মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রসঙ্গত, গতবছর এই মামলায় কেন্দ্রের জবাব চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং অর্থমন্ত্রককে নোটিস পাঠায় শীর্ষ আদালত।
অভিযোগ, খাণ্ডুর স্ত্রী এবং ভাইপোর সংস্থাগুলিকে সরকারি কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। নিজের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সংস্থাকেও বরাত দিয়েছেন অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী। স্রেফ তাওয়াং জেলাতেই ৩০০র মধ্যে ১৫৪টি কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে পেমার পরিবারের সদস্যদের সংস্থাকে। উল্লেখ্য, অরুণাচলে সেভাবে বিরোধী শক্তি নেই। অরুণাচল বিধানসভাও কার্যত বিরোধী শূন্য। যদিও অরুণাচল সরকারের তরফে আইনজীবী সব অভিযোগ খারিজ করেছেন। বিজেপি সরকারের দাবি, যে চুক্তি বা বরাত দেওয়ার কথা হচ্ছে সবটাই হয়েছে নিয়ম মেনে।
