সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) অভিনেতা-রাজনীতিবিদ এবং টিভিকে প্রধান বিজয়কে (Thalapathy Vijay) দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে। কারুরে বিজয়ের সভায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নয়াদিল্লিতে তলব করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১২ জানুয়ারী তিনি সিবিআই-এর সামনে হাজির হবেন।
এই বছরের শেষেই তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হতে চলেছে। সেখানে ডিএমকে-র বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের টিভিকে। তাঁর বিভিন্ন জনসভায় ভিড় বলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর একটি স্বাভাবিক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। তাই রাজ্যের নির্বাচনের আগেই তাঁকে সিবিআই-এর তলব তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করবে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
দক্ষিণী অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ বিজয়ের সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় গত অক্টোবর মাসে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিন সসদ্যের কমিট গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সময়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ বলে, এই ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য, তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এই কমিটির প্রধান করা হয় বিচারপতি অজয় রাস্তোগি। এছাড়াও কমিটিতে থাকার কথা দুই আইপিএস অফিসারের। বলা হয়, এই আধিকারিকরা তামিলনাড়ু ক্যাডারের হতে পারেন কিন্তু তামিলনাড়ুর স্থানীয় বাসিন্দা হতে পারবেন না। গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিজয়ের দল, তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর সমাবেশ হয় তামিলনাড়ুর কারুরে। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পদপিষ্ট হয়ে নারী ও শিশু সহ ৪১ জনের মৃত্যু হয়। প্রায় ৬০ জন আহত হন।
টিভিকে প্রধানের সিবিআই তলবের পিছনে রাজনৈতিক কারণ উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশেষজ্ঞরা। এতদিন দেশের অন্য প্রান্তে ইন্ডিয়া জোটে ছোটখাট বিবাদ-অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলেও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট গত কয়েক বছর মসৃণভাবেই এগিয়েছে। এবার সেই মসৃণতা যেন কোথাও গিয়ে ধাক্কা খেল। ক্ষোভের মূল কারণ, অসম্মান। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস এবং ডিএমকের জোট যতই মসৃণ হোক, রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না ডিএমকে। এ বছর কংগ্রেস ডিএমকের থেকে অন্তত ৪০ আসন দাবি করেছিল। সেখানে ডিএমকে কোনওভাবেই ৩২ আসনের বেশি ছাড়তে রাজি নয়। কংগ্রেস কোনওভাবেই ৩৮ আসনের নিচে নামবে না। আবার স্ট্যালিনও অনড়। সরকারে অংশিদারিত্বের যে দাবি কংগ্রেস করছে, সেটাও খারিজ করে দিচ্ছে ডিএমকে। ফলে স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা এতটাই ক্ষুব্ধ যে তাঁরা অন্য বিকল্প নিয়ে ভাবা শুরু করেছেন। আর সেই ভাবনাতে প্রথমেই উঠে আসছে থলপতি বিজয়ের নাম। বিজয় ঘোষণা করেছেন, কংগ্রেস টিভিকের স্বাভাবিক মিত্র হতে পারে। টিভিকে মুখপাত্র ফেলিক্স জেরাল্ড বলেন, "রাহুল গান্ধী এবং বিজয় বন্ধু। তাঁরাই আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।" এই অবস্থায় টিভিকে নেতার সিবিআই তলব রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত বছর মাদুরাইয়ের সভা থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দেন দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়। জানান, "আমি মাদুরাই পূর্ব, মাদুরাই দক্ষিণ, উসিলামপট্টি, মেল্লুর; পুরো মাদুরাইতে দাঁড়াব। আমি ২৩৪টি আসনেই লড়ব।" অতঃপর থলপতি বিজয়ের 'পাখির চোখ' যে বর্তমানে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনই, তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।
