লাগাতার চার বছর ধরে ১৯ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান ওই তরুণী। ঘটনার পরেই নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় পরিবারের তরফে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। খুঁজেও নিয়ে আসা হয় ওই তরুণীকে। কিন্তু কিছুতেই বাড়ি ফিরতে চাইছিলেন না তিনি। কারণ জানতে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি নির্যাতিতার। এরপরেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুধু নিজের মেয়েকেই নয়, ১৭ বছর বয়সী ভাগ্নিকেও গত সাত বছর ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের রাজকোট এলাকায়।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই তরুণীর দাবি, বিগত চার বছর ধরে বাবার হাতেই লাগাতার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কোনও আওয়াজ যাতে বাইরে না যায় সেজন্য ঘরের মধ্যে জোরে টিভি চালিয়ে দেওয়া হতো। এমনকী অত্যাচারের আগে নীলছবি জোর করে দেখানো হতো বলেও অভিযোগ ওই তরুণীর। দিনের পর দিন মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে রাজকোট পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অপরাধের কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি। শুধু নিজের মেয়েকেই নয়, ১৭ বছর বয়সী ভাগ্নিকেও যৌন নির্যাতনের কথাও অভিযুক্ত স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি। পুলিশের শীর্ষ ওই আধিকারিকের দাবি, অভিযুক্ত মানসিকভাবে অসুস্থ। অন্যদিকে ঘটনার পরেই অভিযুক্তের বাড়িতেও তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে একাধিক আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ওই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নির্যাতিতা তরুণীর মা ক্যানসারে আক্রান্ত। গত কয়েকবছর ধরেই শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। আর তা জানার পর থেকেই বাড়ির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় বলে দাবি। এমনকী অত্যাচারের পরিমাণও বাড়তে থাকে বলে খবর। জানা গিয়েছে, মহিলার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের তরফে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্যাতিতা দুই তরুণীর চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে পুলিশের তরফে।
