নভেম্বরের রক্তক্ষয়ী হিংসার রেশ এখনও টাটকা উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে। সেই ঘটনার পাণ্ডা সন্দেহে এ বার এক অনাবাসী ব্যবসায়ীর সম্পত্তি ক্রোক করল প্রশাসন। বুধবার আদালতের নির্দেশে দুবাই নিবাসী শাকির সাথার বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সুদূর আরব মুলুকে বসেই সম্ভলে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বালানোর ছক কষেছিলেন ওই ব্যক্তি।
গত ২৪ নভেম্বর সম্ভলের শাহী জামা মসজিদে সমীক্ষাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একটি সমীক্ষক দল যখন মসজিদের ভিডিওগ্রাফি ও সমীক্ষার কাজ শুরু করে, তখন স্থানীয়দের একাংশের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে প্রাণ হারান চার জন। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই উঠে আসে শাকির সাথার নাম। স্থানীয় তহসিলদার ধীরেন্দ্র কুমার জানান, শাকিরকে বার বার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি। তাই আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁর দিপা সরাই এলাকার বাড়িটি ক্রোক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, শাকির আদতে এক অপরাধচক্রের মাথা। ধৃত তিন দুষ্কৃতীকে জেরা করে জানা গিয়েছে, শাকিরই তাদের আগ্নেয়াস্ত্র জোগান দিয়েছিলেন। সম্ভলের পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই বলেন, "শাকির এক জন গাড়ি চোর এবং সোনা পাচারকারী। তাঁর বিরুদ্ধে দিল্লিতেও মামলা রয়েছে। এমনকী সংঘর্ষের স্থল থেকে পাকিস্তান ও আমেরিকার তৈরি কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে, যা শাকিরই পাচার করেছিলেন বলে আমাদের অনুমান।" স্থানীয় সূত্রে খবর, শাকির দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে দুবাইয়ে থাকেন। শেষবার ২০২২ সালে তিনি দেশে এসেছিলেন।
অন্য দিকে, এই হিংসা মামলাতেই বুধবার উত্তপ্ত হয় চান্দৌসি জেলা আদালত চত্বর। মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) বিভাংশু সুধীরের বদলির প্রতিবাদে সরব হন আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি ওই বিচারকই হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত ২২ জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আইনজীবীদের একাংশের দাবি, সততার সঙ্গে কাজ করার মাসুল দিতে হল ওই বিচারককে। যদিও জেলাশাসক রাজেন্দ্র পেন্সিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উপদ্রবকারীদের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া জারি থাকবে।
