চলতি বছরের সাধারণতন্ত্র দিবসে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মান পাচ্ছেন কেরলের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দন। পদ্ম তালিকায় এই নাম চোখ টেনেছে বিশেষজ্ঞদের। সাধারণত সিপিআই(এম) বা বলা ভালো বামমনস্করা রাষ্ট্রের দেওয়া কোনও সম্মান বা পুরস্কার নেন না। তাও আবার ‘সাম্প্রদায়িক’ বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে তো নৈব নৈব চ। অতীতে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যরা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ সম্মান। পদ্ম তালিকা সামনে আসার পরই উঠতে শুরু হয়েছে প্রশ্ন। তাহলে কি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদল করল সিপিআই(এম)? নাকি এখানেও দলের বাংলা লবি, কেরল লবির মধ্যে মতপার্থক্য সামনে আসছে। না হলে যে রাষ্ট্রের দেওয়া সম্মান হেলায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলার দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিতে কেন সম্মতি প্রকাশ করল ভি এস-এর পরিবার?
অবশ্য জ্যোতি-বুদ্ধ ও ভি এস-এর মধ্যে সামান্য একটি অমিলও রয়েছে। বাংলার দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে যখন এই সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দু’জনই ছিলেন জীবিত। জ্যোতিবাবু সরাসরিই জানিয়েছিলেন, তাঁরা রত্ন পাওয়ার জন্য কাজ করেন না। ২০২২ সালে যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে এই সম্মান দেওয়া হয়, তখন অসুস্থ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছিলেন যে, তিনি সেই সম্পর্কে কিছুই জানেন না। যদিও সূত্রের খবর, পদ্ম কমিটি ফোনে বুদ্ধ জায়া মীরার সম্মতি নিয়েই তালিকা প্রকাশ করেছিল। নিয়ম ও প্রথা অনুযায়ী পুরস্কার প্রাপকদের সম্মতি নিয়েই তালিকা প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও ভি এস-এর পরিবারের সম্মতি নিয়েই হয়তো প্রকাশ হয়েছে তালিকা। দেখার শুধু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো, নিজেদের মুখরক্ষা করতে সিপিআই(এম) তাঁর পরিবারকে এই সম্মান নিতে অসম্মত করতে পারে কিনা।
তাহলে কি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদল করল সিপিআই(এম)?
মাসকয়েক বাদেই কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভি এস-এর পরিবার এই পুরস্কার নিলে কংগ্রেস পালে হাওয়া লাগিয়ে এই প্রচার করবে যে, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে সিপিআই(এম)। এমনিতেই ১০ বছরের সরকারের উপর ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে, তার উপর এই প্রচার শুরু হলে তা আরও ক্ষতি করবে সিপিআই(এম)-এর। অন্যদিকে কেরলে ভোটের আগে অচ্যুতানন্দনকে পদ্ম সম্মান দেওয়া যে কেন্দ্রের দাক্ষিণাত্য জয়ের অন্যতম কৌশলও হতে পারে, বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করছেন।
পদ্ম পুরস্কারের যে তালিকা এদিন প্রকাশ হয়েছে, তাতে পদ্মবিভূষণ বা পদ্মভূষণ প্রাপকের তালিকায় নেই বাংলার কেউ। ১১৩ জন পদ্মশ্রী প্রাপকের মধ্যে আছেন বাংলার এগারো জন। সাহিত্য ও শিক্ষায় পদ্মশ্রী পাচ্ছেন- অশোক কুমার হালদার, গম্ভীর সিং ইয়োঞ্জনে, মহেন্দ্র নাথ রায় ও রবিলাল টুডু। প্রসেনজিৎ ছাড়াও শিল্পে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন - জ্যোতিষ দেবনাথ, কুমার বসু, তরুণ ভট্টাচার্য, তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং নাট্য ব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন সরোজ মণ্ডল।
