গত কয়েক বছরে যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যে রেকর্ড গড়েছে, তা কার্যত নজরকাড়া। ২০১৭ সালের আগে পর্যন্ত রাজ্যে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪০০ মেগাওয়াট। আজ সেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের সৌরশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৫০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। সরকারি নীতি আর জনভাগীদারির মেলবন্ধনে এই অসাধ্য সাধন হতে পেরেছে।
বিগত ৯ বছরে উত্তরপ্রদেশ নিজেকে গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আগে রাজ্যে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কোনও স্পষ্ট নীতি ছিল না। বড় বিনিয়োগ আসছিল না বললেই চলে। কিন্তু ২০১৭ এবং ২০২২ সালের সৌরশক্তি নীতির সঠিক প্রয়োগে ভোল বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের। বর্তমানে বড় মাপের সোলার পার্ক এবং গ্রাউন্ড মাউন্টেড প্রজেক্টের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদে বসানো হয়েছে ৪ লক্ষেরও বেশি রুফটপ সোলার প্যানেল।
রাজ্যের এই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছে 'পিএম সূর্য ঘর মুফৎ বিজলি যোজনা'। সরকারি ভর্তুকির আকর্ষণে এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের সাশ্রয় হচ্ছে মাসে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। শুধু তাই নয়, নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়তি বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
যোগী সরকারের লক্ষ্য এখন আরও বড়। ২০২২-এর সৌরশক্তি নীতি অনুযায়ী, আগামী দিনে রাজ্যে ২২,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সরকারি ভবনগুলিতেও এখন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের তোড়জোড় চলছে। পাশাপাশি, গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্পের মতো নতুন প্রযুক্তিতেও পা রেখেছে উত্তরপ্রদেশ। গোরক্ষপুরে টরেন্ট পাওয়ার এবং রামপুরে জিরো ফুটপ্রিন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ইতিমধ্যেই গ্রিন হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমছে, তেমনই কয়েক হাজার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখন আর সৌরশক্তি শুধু আলো জ্বালানোয় সীমাবদ্ধ নেই। রান্নার ইনডাকশন থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক স্কুটার বা গাড়ি চার্জ দেওয়ার কাজেও মানুষ অবলীলায় এই শক্তি ব্যবহার করছেন। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) এই ‘সৌর-বিপ্লব’ এক মজবুত ভিত তৈরি করেছে।
