পুণেতে মৃত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে তৃণমূল। শুক্রবার পুরুলিয়ায় যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এদিন সকালে ‘খুনে’র ঘটনায় পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হত্যাকাণ্ডে তিনি মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ বলে এক্স হ্যান্ডেলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। গোটা বাংলা মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে আছে বলেও জানান তিনি।
ওই কুড়মি পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো। বছর একত্রিশের ওই শ্রমিক পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডির বাসিন্দা। ৭৮ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। নিহত ওই পরিযায়ী শ্রমিক তাঁর দাদা তুলসিরাম মাহাতোর সঙ্গেই পুণেতে একই গাড়ির পার্টস তৈরির কোম্পানিতে কাজ করতেন। তাঁর ছোট ভাই কাজ করতেন একটি ওয়েল্ডিং কারখানায়। গত মঙ্গলবার বিকেল তিনটের শিফটে ডিউটিতে যান তিনি। সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় ভিনরাজ্যে খুন করা হয়েছে তাঁকে।
কারখানা থেকে ৫০০ মিটার দূরে উদ্ধার হয় পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ। নিজস্ব চিত্র
সুখেনের দাদা তুলসিরাম মাহাতো বলেন, “আমরা তিন ভাই পুণেতে কারখানায় কাজ করি। আমি আর মেজোভাই সুখেন এক কোম্পানিতে আর ছোট ভাই কাজ করেন অন্য কোম্পানিতে। আমরা একসাথেই ভাড়া বাড়িতে থাকি। সুখেন ওইদিন বিকেল তিনটের শিফটে কাজে যান। আমার ওইদিন নাইট শিফট ছিল। বুধবার সকালে এসে ঘটনার কথা জানতে পারি। বাবা-মাকে জানাই। পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।” গত ২০২২ সাল থেকে তিন ভাই ওই একই কোম্পানিতে কাজ করেন। কোভিডের সময়ও তাঁরা পুণেতে কাজ করতেন। লকডাউনে বাড়ি ফিরে আসার পর কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তাঁরা কাজে যান। তার বছর চারেক পর এই অঘটন।
বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। X হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, "এক যুবককে তাঁর ভাষা, পরিচয়, শিকড়ের জন্য অত্যাচার করা হয়েছে। এবং শেষে হত্যা করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সুখেনের পরিবারকে বলছি এই অকল্পনীয় শোকের মুহূর্তে বাংলা আপনাদের পাশে আছে।"
