আগেকার যাবতীয় ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পূর্ণোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুতিতে এতটুকু খামতি রাখছে না বঙ্গ বিজেপি (West Bengal BJP)। রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের দায়িত্বে আসার পর এই নির্বাচন কার্যত 'অগ্নিপরীক্ষা' রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কাছে। আর তার জন্য নিজের মতো রণকৌশল সাজাচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ইনচার্জ পদে রদবদল করে শমীক বুঝিয়ে দিলেন, বঙ্গ বিজেপির রাশ নিজের হাতেই রাখছেন তিনি। তবে শমীকের বাহিনীতে এখনও পর্যন্ত কোনও পদ পেলেন না রাজ্যের 'দাবাং' গেরুয়া নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
মঙ্গলবার বঙ্গের গেরুয়া ব্রিগেডে শাখা সংগঠনগুলিতে রদবদল ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন মোর্চার সভাপতিদের উপরে ইনচার্জ পদে আনা হয়েছে নেতানেত্রীদের। তাঁরা সকলেই বিজেপি শীর্ষস্তরের।
- মহিলা মোর্চার ইনচার্জ করা হয়েছে প্রাক্তন তারকা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে। লকেট আগে মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি ফের নতুন গুরু দায়িত্ব পেলেন তিনি।
- যুব মোর্চার ইনচার্জ পদে আনা হয়েছে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে। দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন সৌমিত্র ছিলেন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি। বিষ্ণুপুরের দু'বারের সাংসদকে এবার বসানো হল বর্তমান যুব মোর্চার সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ-র উপর।
- দলের আরেক রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে তফসিলি মোর্চার ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সংখ্যালঘু মোর্চার ইনচার্জ করা হল দলের রাজ্যস্তরের নেতা অমিতাভ রায়কে।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ঘোষণা হয়েছে রাজ্য বিজেপির নয়া কমিটি। তাতে দেখা গিয়েছে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সেভাবে কোনও পদে ঠাঁই হয়নি। বদলে আদি নেতাদের পদে ফিরিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য বিজেপি সভাপতি হওয়ার পরই সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। নতুন রাজ্য কমিটি গঠন করে সেই কথা রেখেছেন তিনি।
আর এবারও আদি নেতাদেরই দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মাথায় বসিয়ে তিনি বোঝালেন, দলের শাখা সংগঠনের নিয়ন্ত্রণও তাঁরই হাতে। পাশাপাশি ভোটের আগে অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে মোর্চাগুলির দায়িত্ব দিয়ে মোর্চার কাজকে সক্রিয় করাই লক্ষ্য। তবে শমীক নিজে পদে আসার পর দিলীপ ঘোষকে সক্রিয় করার বার্তা দিলেও এখনও কোনও পদে তাঁকে দেখা গেল না।
