ফের সাতসকালে শহরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি। এবার জিএসটি এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বিভাগে বিপুল আর্থিক তছরূপের তদন্তে ইডি হানা বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মণিপুরে তল্লাশি চলছে। ইডি সূত্রে খবর, আর্থিক কেলেঙ্কারির পরিমাণ সাড়ে ছশো কোটি টাকারও বেশি। এতে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থা জড়িত বলে মনে করছে ইডি। কেলেঙ্কারির মাথা কারা, কারাই বা জড়িত - এসবের সন্ধান করতেই তিন রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলে। অপারেশনের নেতৃত্বে রয়েছে ইডির ইটানগর শাখার একটি দল।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, পূর্ব ভারতে একাধিক ভুয়ো কোম্পানি খুলে বিপুল অঙ্কের ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে অভিযোগ ওঠে আগেই। প্রাথমিক তদন্তে ইডি জানতে পারে, একাধিক শেল কোম্পানি তৈরি করে ভুয়ো বিল দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা সরানো হয়েছে। সেই অঙ্কটা এখনও পর্যন্ত ৬৫৮ কোটি টাকা। সেই অর্থ কোথায় কীভাবে লেনদেন হয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত কারা, সেই 'মানি ট্রেল' খুঁজতেই ইডির এই তল্লাশি বলে খবর।
প্রাথমিক তদন্তে ইডি জানতে পারে, একাধিক শেল কোম্পানি তৈরি করে ভুয়ো বিল দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা সরানো হয়েছে। সেই অঙ্কটা এখনও পর্যন্ত ৬৫৮ কোটি টাকা।
চলতি মাসের গোড়ায় কয়লা কেলেঙ্কারির পুরনো একটি মামলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি হানা নিয়ে শোরগোল উঠেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। ইডি এবং শাসকদলের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়। তা নিয়ে আদালতের দোরগোড়ায় জল গড়ায়। অভিযোগ, আগাম না জানিয়ে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের প্রবেশ এবং তল্লাশিতে প্রবল আপত্তি ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশি চলাকালীন দলের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে চলে যান। তা নিয়ে আবার ইডি মামলা দায়ের করে। এরপর তল্লাশির সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার শহরে ইডি তল্লাশি চলেছে নির্বিঘ্নেই।
