সীমান্তবর্তী জমিতে কাঁটাতার লাগানো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। কেন্দ্র টাকা দিয়েছে এমন সীমান্তবর্তী জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তরের নির্দেশ আদালতের। ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগাতে ওই জমির প্রয়োজন। তাই রাজ্যকে সময়সীমা বেঁধে দিল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফেন্সিং অর্থাৎ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার সীমান্তে বাকি রয়েছে ফেন্সিং। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার বিস্তীর্ণ অংশ রয়েছে। গত ২১ জানুয়ারির শুনানিতে হাই কোর্টে এমনই বিস্ফোরক তথ্য দেওয়া হয় হাই কোর্টে। মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, "রাজ্য কেন জমি অধিগ্রহণ করছে না নিজস্ব অধিকার বলে। জমি অধিগ্রহণ আইন সেকশন ৪০ বা জোর করে জমি অধিগ্রহণ কেন করা হবে না, কারণ এটা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।" বিচারপতি পার্থসারথী সেনের প্রশ্ন, "আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি রাজ্য আন্তর্জাতিক সীমানার অংশীদার। অথচ তারা নিজেরা উদ্যোগ নিচ্ছে না? যে জমি অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। অধিগ্রহণও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হস্তান্তর করা হয়নি। সেই জমি যত দ্রুত সম্ভব হস্তান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত দেওয়া চলবে না।"
প্রায় ১৮০ কিলোমিটার জমির জন্য টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। সেই জমি হস্তান্তরের নির্দেশ। আর যে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে এখনও রাজ্য ক্যাবিনেটের অনুমোদন মেলেনি। সেই বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সীমান্তের জমি অধিগ্রহণ করা যায় কিনা সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্যের উপর মামলার শুনানি করবে আদালত। সবপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল ফের এই মামলার শুনানি।
