মলয় কুণ্ডু: জন্ম-মৃত্যুর সময় নাকি বিধাতার নির্ধারিত। হয়ত 'ইন্ডিয়ান আইডল' খ্যাত দার্জিলিংয়ের গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের জীবন তেমনই সময় নির্ধারিত ছিল। তাই তাঁর জন্ম ও মৃত্যু একই মাসে। রবিবার দিল্লির দ্বারকার হাসপাতালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রশান্ত। তাঁর অকালপ্রয়াণের খবর পেয়ে এক্স হ্যান্ডলে শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখলেন, 'দার্জিলিংয়ের ছেলে এবং কলকাতা পুলিশের সঙ্গে তাঁর জড়িয়ে থাকা আমাদের কাছে বেশি প্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অগণিত অনুরাগীর প্রতি আমার সমবেদনা রইল।'
১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতেই দার্জিলিংয়ে জন্ম প্রশান্ত তামাংয়ের। ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি মনোযোগী ছিলেন পাহাড়ি ছেলেটি। পরবর্তী সময়ে পুলিশে চাকরি করতে করতেই মুম্বইয়ে 'ইন্ডিয়ান আইডল' থেকে অডিশনের সুযোগ আসে। ২০০৭ সালে 'ইন্ডিয়ান আইডল'-এ চ্যাম্পিয়ন হন প্রশান্ত। এরপর বহু বিতর্ক পেরিয়ে নিজের কেরিয়ার এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন পাহাড়ি ছেলেটি। নেপালি সিনেজগতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন প্রশান্ত তামাং। সম্প্রতি ওয়েব সিরিজ 'পাতাললোক ২'-এ তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল। শনিবার বিকেলে দিল্লিতে গানের অনুষ্ঠান শেষে অসুস্থ বোধ করেন প্রশান্ত। তাঁকে দ্বারকার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রবিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক নেমে আসে বিনোদন জগতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার ভূমিপুত্রের অকালপ্রয়াণে শোকবার্তা লেখেন সোশাল মিডিয়া পোস্টে। এক্স হ্যান্ডলে তাঁর বক্তব্য, 'ইন্ডিয়ান আইডল খ্যাত গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের অকস্মাৎ, অসময় প্রয়াণের খবর পেয়ে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। আমাদের দার্জিলিং পাহাড়ের ছেলে এবং তাঁর কলকাতা পুলিশের সঙ্গে তিনি পেশাগতভাবে জড়িত থাকায় আমাদের বিশেষ প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।' উল্লেখ্য, পৃথক গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনে পাহাড় জ্বলে ওঠার নেপথ্যে প্রশান্ত তামাংকে দায়ী করা হয়। তিনি ছিলেন গোর্খাল্যান্ডের ঘোষিত সমর্থক। তবে তার জন্য বাংলার সঙ্গীতানুরাগীদের কাছে প্রশান্তের জনপ্রিয়তা কিছু কমেনি।
