নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের আবহে রাজ্যের কৃতীদের সংবর্ধনা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নবান্নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যে স্বাস্থ্যের পরিকাঠামো, পরিবেশ উন্নয়নে জোর দেওয়ার বার্তা দেন তিনি। এমবিবিএস পাশের পর অনেকেই বাংলায় চিকিৎসা প্রদান করতে চান না। চলে যান ভিন রাজ্য বা দেশে। শুভেন্দু জানান, বাংলার কৃতীরা যাতে রাজ্যে থেকেই বাংলার মানুষকে চিকিৎসা প্রদান করেন তার জন্য স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নত পরিকাঠামো তৈরির দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। যাতে নিজের ইচ্ছায় রাজ্যে থেকে চিকিৎসা প্রদান করেন চিকিৎসকরা। ভারতের পাশাপাশি মাতৃভূমি পশ্চিমবঙ্গকেও ভালোবাসার বার্তা দেন তিনি।
কৃতীদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: কৌশিক দত্ত।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু শহর নয়, গ্রামের মানুষদেরও চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে ডাক্তারদের অঙ্গীকার করতে হবে। নিটের কৃতীদের 'আগামীর চিকিৎসক' বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আপনাদের সফলতা অন্যদের অনুপ্রাণিত করবেন।' শুভেন্দু জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্য আয়ুষ্মান ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রাজ্য। জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম বর্ধমান ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করা হবে। কল্যাণীর মতো উত্তরবঙ্গেও তৈরি হবে এইমস। শুধুমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করার জন্য একাধিক প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। নিউটাউনে ২ হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরি করছে আদানি গ্রুপ। এর জন্য জমি দিয়েছে সরকার। এই হাসপাতালে ১ হাজার বেড দুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য রাখা হবে। এছাড়াও এসএসকেএম হাসপাতালের বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
কৃতীদের অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেন শুভেন্দু। ছবি: কৌশিক দত্ত।
সুস্থ পরিকাঠামোর পাশাপাশি চিকিৎসকদের বাসস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে। স্ক্যান, এমআরআই, আধুনিক ওটি, হাসপাতালগুলিকে সুন্দর করে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
