সাড়ে ৫ ঘণ্টার দীর্ঘ নাটক। দরজায় তালা ঝুলিয়ে ঘরের ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন কাউন্সিলর। তবুও শেষ রক্ষা হল না। অবশেষে পুলিশের জালে কলেজ স্ট্রিটের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিন। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। শুরু হয় ডাকাডাকি। কাউন্সিলর বাড়িতেই লুকিয়ে আছেন, বুঝতে পেরে আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন সেখানে। তারপরেও তিনি ঘর থেকে বেরোননি। অবশেষে তালা খুলতে চাবিওয়ালাকে খবর দেয় পুলিশ। বাড়ির সদর দরজা সহ আরও কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে ঘরের ভিতরে ঢোকেন আধিকারিকরা। কাউন্সিলরকে ঘর থেকে টেনে বের করে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ।
ধৃত কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বের করার সময় ব্যাপক উত্তেজনার পরিস্থিতি এলাকায়। ঠিক সেই মুহুর্তেই কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে যায়। পুলিশের গাড়ি ঘিরে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করেন তাঁরা। পাল্টা অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ জসিমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে বের করতেই তাঁকে টার্গেট করে ডিম ছুড়তে থাকেন উত্তেজিত জনতা। এলাকায় জমায়েত হঠাতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বাহিনী।
২০২৩ সালে কলেজ স্ট্রিটে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল কাউন্সিলর ও তাঁরই ঘনিষ্ঠ ৮ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সেই মামলা তুলে নিতে দিনের পর দিন তরুণীর পরিবারকে চাপ দিতে থাকে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা।
রবিবার ভোরে কলেজ স্ট্রিটে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। গোটা এলাকা ততক্ষণে ঘিরে ফেলে বাহিনী। ২০২৩ সালে কলেজ স্ট্রিটে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল কাউন্সিলর ও তাঁরই ঘনিষ্ঠ ৮ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সেই মামলা তুলে নিতে দিনের পর দিন তরুণীর পরিবারকে চাপ দিতে থাকে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা। জানা গিয়েছে, ওই তরুণী কাউন্সিলরের এলাকারই বাসিন্দা। শনিবার সেই তরুণীকে রাস্তায় একা পেয়ে ফের হামলার অভিযোগ কাউন্সিলরের সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, শনিবার রাতে কলাবাগান এলাকার ফাঁকা রাস্তায় তরুণীকে একা পেয়ে প্রথমে কটূক্তি করা শুরু করে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা। প্রতিবাদ করলে ওই তরুণীর উপর চড়াও হন তাঁরা। তরুণীকে চড়, লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কলাবাগাল এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, শনিবার রাতে কলাবাগান এলাকার ফাঁকা রাস্তায় তরুণীকে একা পেয়ে প্রথমে কটূক্তি করা শুরু করে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠরা। প্রতিবাদ করলে ওই তরুণীর উপর চড়াও হন তাঁরা। তরুণীকে চড়, লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী মধ্য কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ভাঙার অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। রবিবার সকালে এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ-বাহিনী ঘিরে ফেলে কাউন্সিলরের বাড়ি। দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টার লুকোচুরির পর চাবিওয়াল দিয়ে তালা খুলিয়ে কাউন্সিলরকে টেনে বের করা হয়। এই ঘটনায় কাউন্সিলর সহ মোট ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ।
