Advertisement

জোটের জটে উত্তরবঙ্গ, চূড়ান্ত আসন সমঝোতায় কংগ্রেসের কোর্টে বল ঠেলল আব্বাসের দল

12:27 PM Mar 04, 2021 |
Advertisement
Advertisement

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: ভোট আসন্ন। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কিন্তু বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের জটই কাটল না। উত্তরবঙ্গে (North Bengal) আসনের দাবি থেকে সরছে না আইএসএফ। কংগ্রেসের তরফ থেকেও মেলেনি সবুজ সংকেত। বৃহস্পতিবার ফের বৈঠকে বসতে চলেছে জোটের তিন পক্ষ। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) এবার জোট মীমাংসা নিয়ে কংগ্রেসের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছে। ফলে কার্যত কংগ্রেসের উপর নির্ভর করছে জোটের ভবিষ্যৎ।

Advertisement

একানব্বই নয়। নয় তিরানব্বইও। চাই ঠিক ৯২টি আসন। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Polls 2021) আগে ফের দাবি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাচ্ছেন সিদ্ধান্ত। তাই কেটেও কাটছে না জোটের জট। প্রদেশ সভাপতির এহেন মনোভাবে ক্ষুব্ধ জোটের অপর দুই শরিক। ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের একাংশও। জোট জট কাটাতে মরিয়া আলিমুদ্দিনও। কংগ্রেস দু-তিনটি আসন ছাড়লে তারাও আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত। নমনীয় আব্বাস শিবিরও। গুটিকয়েক আসনের জন্য জটিলতা বজায় থাক, তা চাইছে না ফুরফুরা শরিফও।

[আরও পড়ুন: স্কুলপডুয়াদের জন্য ট্যাব কেনার টাকা নিয়ে গরমিল খুঁজতে স্কুলকে নির্দেশ, শুরু বিতর্ক]

দিনে নমনীয়। আবার সূর্য অস্তাচলে যেতেই কঠোর। ফিরে যাচ্ছেন পুরনো অবস্থানে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) বারবার মত বদলে ফাঁপড়ে আলিমুদ্দিন। বারবার নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার তিন জোট শরিকের বৈঠকে আইএসএফকে সাতটি আসন ছাড়ার আশ্বাস দিলেও রাতে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন প্রদেশ সভাপতি। জানিয়ে দেন, আইএসএফকে সাতটি আসন ছাড়তে হলে তা সিপিএমের দিক থেকেই দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনা হয় বলে আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর। কীভাবে এই জট ছাড়ানো যায়, তা নিয়েও দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা হয় দলের সদস্যদের মধ্যে। অধীরকে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার আবেদন জানানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় সিপিএম নেতৃত্ব।

[আরও পড়ুন: প্রাথমিক টেটে নিয়োগের স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ, মামলা গড়াল আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে]

দু-তিনটি আসন ছেড়ে দিলে তাঁরাও ভাইজানকে আরও কয়েকটি আসন ছাড়তে রাজি বলে বার্তা পাঠান হয় বিধানভবনে। দুপুরে বিধানভবনে দলের বৈঠক চলাকালীন নমনীয় হওয়ার কথা জানান তিনি। রাতে দলের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত আলিমুদ্দিনকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়। মূলত জোটের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই অধীর চৌধুরীর এহেন সিদ্ধান্ত। এছাড়াও বারবার তাঁর মত বদলে বিরক্ত হচ্ছিল কংগ্রেসের নেতা,কর্মীরাও। এরপরেই ফের তৎপর হয় সিপিএম। রাতেই ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র ও মহম্মদ সেলিমরা। তাঁদেরও নমনীয় হওয়ার আবেদন জানায় আলিমুদ্দিন। রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে কয়েকটি আসন কম পেলেও আপত্তি নেই। কয়েকটি আসনের জন্য জোট ভেঙে যাক, এমনটা তাঁরা চান না।

Advertisement
Next