'তরুণ তুর্কী' প্রতীক উর রহমানকে (Pratikur Rahaman) ফেরাতে ব্যর্থ হলেন প্রবীণ বিমান বসুও। বর্ষীয়ান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও সিপিএমের প্রতি যে বীতশ্রদ্ধ, তা নাকি সাফ জানিয়েছেন প্রতীক উর। এই যুক্তিতেই বিমান বসুর বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এতেই কার্যত স্পষ্ট যে, আর কোনও দোলাচলে নেই প্রতীক উর। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিশ্চিত তিনি।
ভোট বড় বালাই। নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) মুখে এক একটি পা ফেলতে হয় অতি সাবধানে। আর সেই কাজটাই এই মুহূর্তে করে চলেছে রাজ্য বামফ্রন্ট। দলের ‘তরুণ তুর্কি’ প্রতীক উর রহমানকে ধরে রাখতে আসরে নেমেছেন প্রবীণ বিমান বসু (Biman Bose)। কারণ, সিপিএমের একাংশ চাইছে প্রতীক উরের মতো তরতাজা, সংখ্যালঘু, সক্রিয় নেতাকে সামনে রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে। তাই মানভঞ্জনে প্রতীক উরকে ফোন করেছিলেন খোদ বিমান বসু। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি বলেই খবর।
এবিষয়ে প্রতীক উর (Pratikur Rahaman) জানান, একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে বিমান বসু বলছেন। সেই ফোনেই তাঁকে আলিমুদ্দিনে বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতীক উর নাকি সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু কেন? প্রতীক উর নাকি বিমান বসুকে জানিয়েছেন, "আপনার আদেশ আমি অমান্য করতে পারি না। কিন্তু বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে আমি আপনার মুখোমুখি হতে পারব না।" তাঁর সাফ কথা বিমান বসুকে শ্রদ্ধা করলেও দলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ তিনি। একাধিক ইস্যু নিয়ে দলকে জানানো হলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে একইঘটনার পুনরাবৃত্তির কারণেই কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছেন প্রতীক উর। এই মুহূর্তে সিদ্ধান্তে অনড় তিনি। সেকারণেই খোদ বিমান বসু মাঠে নামার পরও গলল না বরফ। এতেই আরও জোরদার হয়েছে বামনেতার তৃণমূল যোগের জল্পনা।
