shono
Advertisement
Dr Sourav Ghosh

মেধাবী ডাক্তার থেকে ন্যালাক্ষ্যাপা ভবঘুরে! ভাইরাল ‘চিকিৎসক’ সৌরভের পাশে শিক্ষক-সহপাঠীরা

মনে নেই জীবনের কথা, কিন্তু গড়গড় করে প্রেসক্রিপশন লেখেন নাকতলার ডাঃ সৌরভ ঘোষ। তাঁর পাশে এবার বন্ধুরাও!
Published By: Ramen DasPosted: 08:36 AM Jan 31, 2026Updated: 01:39 PM Jan 31, 2026

এলোমেলো চুল। হাফ প্যান্ট। ওষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে নিজের মনে কিছু লিখছেন একজন! সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই ভিডিও ভাইরাল হয় কয়েকদিন আগে। যেখানে দেখা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি ওষুধের নাম লিখছেন মুহূর্তেই। এমন ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে, সকলেই খুঁজতে শুরু করেন কে এই যুবক? জানা যায়, তাঁর নাম ডাঃ সৌরভ ঘোষ। নাকতলা এলাকার বাসিন্দা একটা সময় ছিলেন মেধাবী ছাত্র!

Advertisement

অবাক হয় নেটদুনিয়া! মেধাবী থেকে ভবঘুরে হওয়ার কারণে উঠে আসে বহুকিছু। এবার সেই সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যেই সৌরভের পাশে তাঁরই সহপাঠীদের একাংশ। প্রিয় ছাত্রের কাছে পৌঁছলেন তাঁর স্কুলের শিক্ষকেরাও। নাকতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সুদীপ্ত সরকার, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, সৌরভ ঘোষের এমন ভিডিও দেখে বিচলিত হন তাঁরা। ওই ছাত্রের বাড়িতে পৌঁছন তিনি এবং আরও একজন শিক্ষক। তাঁরা খোঁজ নেন, এবং সৌরভ ঘোষের মেডিক্যাল কলেজের সহপাঠীদের কয়েকজনের সঙ্গেও তাঁদের দেখা হয়েছে বলে দাবি নাকতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের। তাঁদের সাহায্যার্থেই চিকিৎসক সৌরভ ঘোষের চিকিৎসার বন্দোবস্ত হচ্ছে বলে খবর। ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন তিনি, আশায় প্রায় সকলেই।

কিন্তু কে এই সৌরভ ঘোষ? কেন এমন পরিণতি?

সূত্রের খবর, ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন নাকতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের (Naktala High School) ছাত্র সৌরভ ঘোষ (Sourav Ghosh)। বাবা পেশায় ছিলেন রেলের কর্মী। সৌরভের এক ভাইও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। এরপর জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে (NRS Medical College and Hospital) ভর্তি হন তিনি। ২০০৩ নাগাদ শেষ হয় এমবিবিএস। তারপর বেশ কিছুদিন চিকিৎসাও শুরু করেন মেধাবী এই ছাত্র। এরপর তাঁর বাবা, মায়ের মৃত্যু। ভাইয়েরও মৃত্যু হয়। একাধিক কারণে সৌরভ মানসিক ভারসাম্য হারান। এরপর বাড়ির নিচ
তলার নোংরা ঘরেই বসবাস। আশপাশের লোকজনের সাহায্যে খাওয়ার বন্দোবস্ত। কিন্তু যেকোনও কারণে প্রেসক্রিপশন লিখতে বললে, লিখে দেন গড়গড় করে। ভুল হয় না নাম, এমনকী রেজিস্ট্রেশন নম্বরও। রামগড়, বাঘাযতীনের গলিপথে খোঁজ মেলে এই চিকিৎসকের। যাঁকে ঘিরেই তৈরি হয় শোরগোল।

অনেকেই বলছেন, এত মেধাবী ছাত্র হয়েও কেন এতদিন তাঁর দিকে নজর পড়েনি কারওর? স্থানীয়রা বলছেন, বহুবার চেষ্টা হয়েছে, মাঝে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু কাজের কাজ করা যায়নি। সৌরভ নিজের মনেই থাকতে বেশি পছন্দ করেন বলে দাবি। চিকিৎসক থেকে ভবঘুরে অথবা তথাকথিত মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ওঠার কারণে মনস্তত্ত্ববিদদের একাংশ বলছেন, অত্যন্ত ভালো পড়াশোনা, নিশ্চিত ভবিষ্যত থাকলেও অনেকেই পড়াশোনার চাপের কাছে হেরে যান। এর সঙ্গে যোগ হয় পরিবার বা প্রিয়জন বিয়োগ, আচমকা আঘাত। এই ক্ষেত্রে ঠিক কী হয়েছে, সেই বিষয়টি আরও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলেই দাবি মনোবিদদের।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement