ভোটের এক সপ্তাহ আগে ফের তেড়েফুঁড়ে অ্যাকশন। শুক্রবার ভোর ভোর পাঁচটা নাগাদ দেবাশিস কুমারের (Debasish Kumar) মনোহরপুকুরের বাড়ি ও কার্যালয়ে পৌঁছে যান আয়কর বিভাগের কর্তারা। সকাল থেকে সন্ধে পেরিয়ে গেলেও জারি তল্লাশি। ১৩ ঘণ্টা পেরিয়েও রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আয়কর আধিকারিকরা। বাড়ির বাইরে বাড়ছে বাহিনী।
দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে দিনভর আয়কর তল্লাশি। 'ঘরের ছেলে'কে হেনস্তার অভিযোগে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন তাঁর অনুগামীরা। দুপুর গড়াতেই সেই বিক্ষোভ আরও চড়া হয়। বুকে প্ল্যাকার্ড সেঁটে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীদের বুকে লাগানো প্ল্যাকার্ডে লেখা 'আমিও দেবাশিস কুমার'। 'নির্বাচনের আগে কেন হেনস্তা?' প্রশ্ন তুলে দফায় দফায় স্লোগান ওঠে।
সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে সাঁড়াশি চাপ। একদিকে আয়করের জিজ্ঞাসাবাদ যেমন চলছে, তেমনই অনুগামীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে বিধায়কের বাড়ি লাগোয়া এলাকায় পরিস্থিতি কার্যত সরগরম হচ্ছে। সকাল থেকে বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে বাহিনী। দুপুর গড়াতেই জওয়ানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে সেখানে।
উল্লেখ্য, জমি দখল সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলায় দিনকয়েক আগেই বিদায়ী বিধায়ক তথা রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে তলব করে ইডি। তিনি হাজিরাও দেন। জানা গিয়েছিল, জমি সংক্রান্ত মামলায় ছিল সেই তলব। ঘটনায় জড়িত একাধিকজনের ঠিকানায় তল্লাশিতে বহু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে উঠে আসে। তাতেই উঠে আসে দেবাশিস কুমারের নাম।
প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটের আগেও একই ছবি দেখে ছিল বাংলা। প্রায় প্রতিদিনই ইডি-সিবিআই টার্গেট ছিল রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের বাড়ি। ভোটের মুখে এজেন্সি ব্যবহার করে হেনস্তার অভিযোগে সরব হয়েছিল বাংলার শাসকদল। ৫ বছর পেরিয়ে আবার একটা নির্বাচন। এবার ভোটের ঠিক আগে শহরজুড়ে ইডি-আয়করের টানটান অ্যাকশন। তৃণমূলের অভিযোগেই সিলমোহর দিল না তো কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা? এমনটাই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
