সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে সেনা মহড়া চলাকালীন রেড রোডে ফের দুর্ঘটনা। একটি বিলাসবহুল গাড়িকে দ্রুত বেগে এগিয়ে আসতে দেখেন পুলিশকর্মীরা। গাড়িটি পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় গার্ডরেলে ওই বিলাসবহুল গাড়িটি ধাক্কা মারে। চালক-সহ গাড়িটিকে আটক করেছে ময়দান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় ফের ফিরল ২০১৬ সালে বায়ুসেনা আধিকারিককে পিষে দেওয়ার ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি।
শনিবার ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে সাতটা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় আচমকাই কালো রঙের অক্টাভিয়া গাড়িটি ওই কুচকাওয়াজের মহড়ার দিকে ধেয়ে আসে। তবে গার্ডরেলে ধাক্কা দিয়ে থেমে যায় গাড়িটি। এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটিতে ৩-৪ জন কমবয়সি ছেলেমেয়ে ছিলেন। গাড়ির গতিও ছিল অনেক বেশি। রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া চলাকালীন বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা। ফিরল ১০ বছর আগের দুর্ঘটনার স্মৃতি। এদিন কুচকাওয়াজের মহড়া চলাকালীন বিলাসবহুল একটি গাড়িকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসতে দেখেন পুলিশ কর্মীরা। গাড়িটিকে পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা মারে গাড়িটি। চালক-সহ গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে বেশ কিছু গরমিল রয়েছে। ইন্সিওরেন্স এং দূষণ সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক ছিল না বলেই খবর।
এই দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে এই দুর্ঘটনা উসকে দিয়েছে ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি রেড রোডে বায়ুসেনা আধিকারিকের প্রাণহানির ঘটনা। ওইদিন ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৬টা থেকে ৬টা ১০। খিদিরপুর রোড থেকে প্রচণ্ড গতিতে একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে রেড রোডে আসে অডি গাড়ি। উত্তর কলকাতার দিকে যাওয়ার পথে বাধা রয়েছে বুঝতে পেরে সাম্বিয়া জে কে আইল্যান্ডের কাছ থেকে গাড়িটি ঘুরিয়ে নেয়। সেসময় রেড রোডে চলছিল সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া। অডি গাড়ি বায়ুসেনাকর্মী অভিমন্যু গৌড়কে ধাক্কা দেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যায়। চালকের আসনে ছিল সাম্বিয় সোহরাব। ওই গাড়ির পিছনে একটি স্কোডা গাড়িতে ছিল তার দুই সঙ্গী জনি ও শানু। তারাই সাম্বিয়াকে পার্ক স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যায়। এর পর শানু ও সাম্বিয়া মিলে অন্য একটি গাড়ি করে শহরের বাইরে পালানোর চেষ্টা করে। বাইপাসের ধারে গাড়ি খারাপ হয়। তখন অন্য গাড়িতে উঠে তারা পালায় খড়গপুরে। সেখান থেকে ট্রেন ধরে প্রথমে ঝাড়খণ্ড। সেখান থেকে দিল্লি পালিয়ে যায় শানু। তবে শেষরক্ষা হয়নি। দিল্লি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ সাম্বিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
