নারী নিরাপত্তায় দেশে সুরক্ষিত শহরগুলির মধ্যে সেরা কলকাতা! সেই নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আরও পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য সরকার। আজ, শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে 'পিঙ্ক বুথ' ও 'পিঙ্ক মোবাইল' পরিষেবা। শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, 'গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের শহরের মহিলাদের নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধির জন্য, কলকাতা পুলিশ আজ থেকে আরও দু'টি উদ্যোগ চালু করছে।'
কী এই 'পিঙ্ক বুথ 'ও 'পিঙ্ক মোবাইল' পরিষেবা? লালবাজার জানিয়েছে, মূলত নারী নিরাপত্তার জন্য তৈরি করার কারণেই সেগুলির নাম দেওয়া হয়েছে 'পিঙ্ক বুথ'। সারারাত চালু থাকবে এই বিশেষ বুথ। এই বুথের দায়িত্বে থাকবেন অন্তত একজন করে পুলিশ আধিকারিক। সঙ্গে থাকবেন তিন থেকে ৫ জন মহিলা পুলিশকর্মী। বেশি রাতে কোনও মহিলা বিপদে পড়লে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যেতে পারেন নিকটবর্তী গোলাপি বুথে। বুথে কর্মরত মহিলা পুলিশকর্মীরাই তাঁকে নিয়ে যাবেন সংশ্লিষ্ট থানায়।
একই সঙ্গে চালু হচ্ছে পুলিশের 'পিঙ্ক মোবাইল'ও। এই টহলদার গাড়িতেও থাকবেন মহিলা পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরা। কোনও মহিলা বিপদে পড়েছেন, এমন খবর পেলে ওই টহলদার গাড়ি ছুটে যাবে সেখানে। এমনকী বেশি রাতে কোনও মহিলা বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ি না পেলে 'পিঙ্ক বুথ' ও 'পিঙ্ক মোবাইল'-এ কর্তব্যরত মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁকে সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, কলকাতার দশটি ডিভিশনেই এই 'পিঙ্ক বুথ' তৈরি হবে। একেকটি ডিভিশনে দু'টি করে। প্রথমে উত্তর কলকাতায় চালু হলেও ক্রমে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট, রাসবিহারী, পার্ক সার্কাস, মধ্য কলকাতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই 'পিঙ্ক বুথ' তৈরি হবে। মূলত শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ই বেছে নেওয়া হয়েছে এই বুথ তৈরির জন্য। শনিবার উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে এই 'পিঙ্ক বুথ' ও 'পিঙ্ক মোবাইলে'র উদ্বোধন করতে পারেন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বেশ কয়েকটি সম্পূর্ণ মহিলা চালিত গোলাপী বুথ চালু করা হবে। শনিবার থেকেই পরিষেবা চালু হবে। শহরের আমার বোনেরা এই বুথগুলিতে যে কোনও সহায়তার জন্য সরাসরি কলকাতা পুলিশের মহিলা অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, আজ সন্ধ্যা থেকেই বেশ কয়েকটি সম্পূর্ণ মহিলা-চালিত পুলিশ ভ্যান রাত ৮টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ডিউটিতে থাকবেন। রাতে ইএম বাইপাস-সহ আমার কর্মরত বোনরা যে রাস্তাগুলি ব্যবহার করেন সেই প্রধান রাস্তাগুলিতে টহল দেবে।' তাঁর আরও সংযোজন, 'কলকাতা বছরের পর বছর ধরে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহরের স্থান দখল করেছে। আমি নিশ্চিত এই দু'টি অনন্য নতুন উদ্যোগ একই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।'
