এমবিবিএস ছাড়া অন্য কোনও ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারবেন না প্রেসক্রিপশনে। ডা. শান্তনু সেনকে কড়া নির্দেশ রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের। দেওয়া হয়েছে বাহাত্তর ঘণ্টার সময়সীমা। রাজ্যে মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. মানস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তিনদিনের মধ্যে নির্দেশ না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাতিল হতে পারে রেজিস্ট্রেশনও।
ঝঞ্ঝাটের শুরু বছর খানেক আগে। ডা. শান্তনু সেনকে নোটিস দিয়েছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, এমবিবিএস আর পোস্ট গ্র্যাজুয়্যাট কোয়ালিফিকেশন রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাম্মানিক পদবি রেজিস্ট্রেশন করা যায় না।
ডা. সুদীপ্ত রায় জানিয়েছেন, মেডিক্যাল কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে যে সার্টিফিকেট ডা. শান্তনু সেন দেখিয়েছেন সেখানে দেখা যাচ্ছে আদতে ডা. সেনের সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা অফ ফেলোশিপ এফআরসিপি (গ্লাসগো)। কিন্তু ডিপ্লোমা অফ ফেলোশিপ বিষয়টি ডা. সেনের লেটারহেডে কোথাও লেখা নেই। প্রফেশনাল লেটারহেডে লেখা এফআরসিপি (গ্লাসগো)।
রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে এতে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এই লেখা সরাতে হবে। যদিও শান্তনু সেনের দাবি, "আমি কোনও মানুষকে ভুল বোঝাইনি।" কাউন্সিল মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রেসক্রিপশনে ডা. শান্তনু সেন শুধু ডিএমআরডি বা ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল রেডিও ডায়গনসিস ‘ডিগ্রি’টি ব্যবহার করতে পারবেন। গত বছর জুলাই মাসে দু’বছরের জন্য ডা. শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল কাউন্সিল। মেডিক্যাল কাউন্সিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন চিকিৎসক। ফেরতও পান রেজিস্ট্রেশন।
এবার ফের নতুন করে প্রশ্নের মুখে ডা. শান্তনু সেনের প্রেসক্রিপশন। মঙ্গলবার ডা. শান্তনু সেন জানিয়েছেন, "এমবিবিএস এরপর রেডিওলজিতে আমার বৈধ পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি আছে। রয়েছে গোল্ড মেডেলও। তার ভিত্তিতেই আমি প্র্যাকটিস করি। রয়্যাল কলেজ অফ গ্লাসগো আমায় সাম্মানিক এফআরসিপি দিয়েছে। ফিল্ডে আমার কাজের জন্য। আমি কখনওই বলিনি আমি পরীক্ষা দিয়েছি। এর আগে আমার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার পর আলাদত আমায় যে নির্দেশ দিয়েছিল তা মেনেই প্র্যাকটিস করছিলাম।" মঙ্গলবার তবু তাঁকে কেন মুখোমুখি হতে হল মেডিক্যাল কাউন্সিলের? শুনানির বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে আলোচনা করতে নারাজ ডা. শান্তনু সেন। বলেছেন, "সামনে নির্বাচন এমন কোনও মন্তব্য করব না যাতে কেউ বিব্রত হয়।"
