কোনও গাড়ির সিএফ ১০ বছর ধরে ফেল! কোনও গাড়ির বয়স ২০ পার করে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় যাত্রী নিয়ে ছোটানো যাবে না। অথচ তোবড়ানো, ট্যাক্স, বিমা, দূষণ পরীক্ষায় ফেল করা সেই সমস্ত চার চাকার গাড়িতেই পাড়ায় পাড়ায় চলছে গাড়ি প্রশিক্ষণের কাজ! যে গাড়িতে প্রশিক্ষিত হতে গিয়ে ঘটে গিয়েছে একাধিক দুর্ঘটনাও। বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানে নেমে মঙ্গলবার সাতটি এইরকম বেআইনি গাড়ি সিজ করল কসবা আরটিও। এ ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন জায়গাতেও এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
নেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্লাসরুম, নেই উপযুক্ত প্রশিক্ষক, নেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দিষ্ট গাড়ি, নেই নির্দিষ্ট ঠিকানায় কোনও অফিসও। অথচ কিছু না থেকেও ন্যূনতম পরিকাঠামো ছাড়া শহর থেকে জেলা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে মোটর ট্রেনিং স্কুল। এমনকী জাল বিল ছাপিয়েও চলছে গাড়ি চালানো শেখানো। যা থেকে বাড়ছে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। কাঁচা হাতে স্টিয়ারিং ধরাতে বাড়ছে বিপদও। ইতিমধ্যে গোটা বিষয়টি নজরে এসেছে পরিবহণ দপ্তরের।
মঙ্গলবার কসবা এআরটিও অঞ্জন পালের নেতৃত্বে একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে সাতটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, নিউটাউন, সল্টলেক, কৈখালি এলাকা থেকে এই গাড়িগুলো ধরা হয়েছে। এই অভিযান আগামীদিনেও চলবে বলে জানানো হয়েছে। পরিবহন দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, যারা এই গাড়ি শেখানোর কাজ করছেন,তাঁরা কোনও স্বীকৃত মোটর ট্রেনিং স্কুলের নয়। বেআইনিভাবে পাড়ায় পাড়ায় গাড়ি চালানোর স্কুল খুলেছে এরা। আর এই সমস্ত গাড়িতে ডাবল ক্লাচ ব্রেক লাগিয়ে তা ব্যবহার করা হচ্ছে গাড়ি শেখানোর কাজে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, "গোটা রাজ্যেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেআইনি গাড়ি শেখানোর সংস্থা। দু’তিনটি পুরনো, ফিটনেস ফেল গাড়ি দিয়ে সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই এই সমস্ত মোটর ট্রেনিং স্কুল চালানো হয়। ধরপাকড় হলে কিছুদিন বন্ধ থাকে। ফের তা চালু করা হয়। জাল প্রশিক্ষক ধরতে চালানো হচ্ছে অভিযান।"
