এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়ায় পরিবারে জুড়ল ভূতুড়ে সদস্য! পাঁচ-ভাই বোন হলেও, ভোটারদের বাবার নাম ব্যবহার করে ৬ জনের নামে ম্যাপিং করা হয়েছে! কমিশনের তথ্য তাই বলছে। সে কারণে মুর্শিদাবাদের নাইমাকে শুনানির নোটিস ধরাল কমিশন। তিনি কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার ডিআইজি সীমা খান্নাকে বার্তা পাঠিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ভুল কার? পরিবারের নাকি ইলেকশন কমিশনের। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন প্রয়োজনে কমিশন তাঁদের পরিবারের সমস্ত নথ্য খতিয়ে দেখে যাক। বিষয়টি তুলে ধরে ফের কমিশনকে বিঁধেছে তৃণমূল। এই সীমা খান্নার বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নাইমা খাতুন। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। ভাই ও বোন মিলিয়ে তাঁরা পাঁচজন! এনুমারেশন ফর্ম পূরণের সময় নাইমা-সহ পাঁচ ভাই-বোন তাঁদের বাবার নাম দিয়ে ম্যাপিং করিয়েছেন। নাইমার অভিযোগ, দ্বিতীয় দফার শুনানিতে কমিশন তাঁকে নোটিস দিয়ে জানিয়েছে, তাঁর বাবার সঙ্গে ৬ জনের ম্যাপিং করা হয়েছে। তাই তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু আদতে তাঁরা ৫ ভাই-বোন!
ইলেকশন কমিশনের আইটি সেলের প্রধান সীমা খান্নাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে নাইমা প্রশ্ন তুলেছেন, 'এই ধরনের সমস্যার জন্য কারা দায়ী? আমি নাকি, আপনাদের সংস্থা? তিনি ওই মেসেজে আরও জানিয়েছেন, কমিশনের যদি মনে হয় তাহলে তাঁদের বাড়িতে এসে পরিবারের সমস্ত নথিপত্র দেখে যাক। সামাজিক মাধ্যমে সেই ম্যাসেজটি ভাইরাল (যদিও মেসেজের সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন)।
নাইমার এই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা তুলে ধরে ফের নির্বাচন কমিশনকে বিঁধেছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের অন্যতম মুখপত্র অরূপ চক্রবর্তী ফেসবুকে পোস্ট করে লিখছেন, 'NIC-এর ডেপুটি ডিরেক্টর সীমা খান্নাকে বাংলার একজন বোনের পক্ষ থেকে পাঠানো মেসেজ সামাজিক মাধ্যমে পেলাম। মাথায় রাখতে হবে যে, এই সীমা খান্নাই হলেন সেই ব্যক্তি যাঁর জন্য বাংলার দেড় কোটি মানুষকে নির্বাচন কমিশনের লজিক্যাল ডিস্ক্রেপেন্সি নামক হয়রানির মুখে পড়তে পড়তে হচ্ছে।' উল্লেখ্য, আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সীমা খান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার নবান্নে অভিযোগ তুলেছেন, বিহার-ঝাড়খণ্ডের লোক ঢোকানো হয়েছে। নাইমাদের ঘটনা কি তার উদাহরণ? উঠেছে সেই প্রশ্নও।
