জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তুমুল অশান্তির পরিবেশ। রবিবারের অনুষ্ঠানে একাধিক কারণে তাল কাটল। তবে সবচেয়ে চর্চিত হয়ে রইল রাজ্যে এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একটি মন্তব্য। এদিন ভারচুয়াল কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার মন্তব্য করেন, ''এসআইআর নিয়ে মিথ্যে ভাষ্য তৈরি করা হচ্ছে বাংলায়।'' এরপরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠে ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তাঁকে সমর্থন জানান তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও। এনিয়ে কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতিতে। এছাড়া বিএলও-দের পুরস্কৃত করা থেকে শুরু করে বিএলও ও আমজনতার মৃত্যু-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। যা নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।
রবিবারের অনুষ্ঠানে এসআইআর নিয়ে এযাবৎ ভালো কাজ করা বিএলও-দের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে। সেইমতো দূরদূরান্ত থেকে বিএলও-রা এসেছিলেন। কিন্তু ১০ জনের হাতে সম্মান তুলে দেওয়ার পর জানানো হয়, বাকিদের পুরস্কার জেলায় পৌঁছে যাবে। তাতে বিএলও-দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁদের বক্তব্য, অনেকেই বহু দূর থেকে এসেছেন সম্মান গ্রহণ করতে, খালি হাতে ফিরে যেতে নারাজ তাঁরা। এনিয়ে সামান্য উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হলেও পরে তা মিটে যায়।
বিএলও-দের সংবর্ধনা ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে। ছবি: অরিজিৎ সাহা
তবে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের জোড়া মন্তব্য ঘিরে। 'এসআইআর নিয়ে রাজ্যে মিথ্যে ভাষ্য তৈরি হচ্ছে বাংলায়', জ্ঞানেশ কুমারের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত আশুতোষে চট্টোপাধ্যায়।তাঁর বক্তব্য, ''মিথ্যে ভাষ্য বলতে কী বোঝাচ্ছেন উনি? তার মানে কমিশন কোনও নির্দিষ্ট ভাষ্য তৈরি করতে চাইছে? এছাড়া আপনি বক্তব্যের মাঝে বলেছেন - অকংগ্রেসি সরকার। এর অর্থ কী? সিপিএম অথবা তৃণমূল সরকারের নাম উল্লেখ করতে অসুবিধা কোথায়? তার মানে কি আপনার নিশানায় শুধু কংগ্রেস?''
'এসআইআর নিয়ে রাজ্যে মিথ্যে ভাষ্য তৈরি হচ্ছে বাংলায়', জ্ঞানেশ কুমারের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন কংগ্রেসের তরফে উপস্থিত আশুতোষে চট্টোপাধ্যায়।তাঁর বক্তব্য, ''মিথ্যে ভাষ্য বলতে কী বোঝাচ্ছেন উনি? তার মানে কমিশন কোনও নির্দিষ্ট ভাষ্য তৈরি করতে চাইছে? এছাড়া আপনি বক্তব্যের মাঝে বলেছেন - অকংগ্রেসি সরকার। এর অর্থ কী? সিপিএম অথবা তৃণমূল সরকারের নাম উল্লেখ করতে অসুবিধা কোথায়? তার মানে কি আপনার নিশানায় শুধু কংগ্রেস?''
আশুতোষ দাবি জানান, ''এসআইআরে ১২৬ টি প্রাণ ঝরে গিয়েছে। এঁদের জন্য অন্তত কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত।'' এর জবাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের মন্তব্য অশান্ত পরিবেশ আরও খানিকটা উসকে দেয়। মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানান, মৃত্যু নিয়ে জেলাশাসকদের তরফে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তাই তাঁরা এবিষয়ে জানেন না। এতে শোরগোল বেঁধে যায়। এতজনের মৃত্যুর তথ্যই নেই কমিশনের কাছে! এনিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে রাজ্য নির্বাচন কমিশন আয়োজিত জাতীয় ভোটার দিবসের অনুষ্ঠান। ছবি: অরিজিৎ সাহা
আশুতোষ দাবি জানান, ''এসআইআরে ১২৬ টি প্রাণ ঝরে গিয়েছে। এঁদের জন্য অন্তত কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত।'' এর জবাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, মৃত্যু নিয়ে জেলাশাসকদের তরফে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই। তাই তাঁরা এবিষয়ে জানেন না। এতজনের মৃত্যুর তথ্যই নেই কমিশনের কাছে!
এরপর তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি জানতে চান, দেড় কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, তা কীসের ভিত্তিতে? তাতে মনোজ আগরওয়ালের স্পষ্ট জবাব, ''এমন কোনও তথ্য কমিশনের তরফে কখনও বলা হয়নি। এসব কথা বলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।" সুব্রত বক্সির আরও বক্তব্য, বৈধ ভোটারদের নাম নিশ্চিত করতে হবে। একই দাবি জানান সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার। তাতে সিইও তাঁকে আশ্বস্ত করে জানান, ''নিশ্চিন্তে থাকুন। আগেও বলেছি, আবারও বলছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না।'' তাতে বিজেপির তাপস রায় মন্তব্যে করে বসেন, ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে। তাতে সুব্রত বক্সি পালটা মন্তব্য করে, ''ভুয়ো ভোটারদের তালিকা দেখাতে হবে, সেই তালিকা কি বিজেপির কাছে আছে?'' সবমিলিয়ে এসআইআরের মাঝে জাতীয় ভোটার দিবস পালন নিয়ে নজিরবিহীন অশান্তির সাক্ষী রইল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তর।
