এ যেন উলটপুরাণ! ভোটে জিতলে শুধু সম্পত্তি বাড়েই না, অনেকের কমেও। ভাবছেন এমনটাও হয় নাকি? ভোটে জিতলে তো ক্ষমতা, অর্থ, সম্পদ-সবই বাড়ার কথা। কমার কথা তো নয়। কিন্তু তথ্য বলছে, সম্পত্তি কমেও। কারও কারও ৫০ শতাংশের বেশি সম্পত্তি কমেছে। ২০২১ সালে ভোটে জয়ী এমনই ১৫ বিধায়ক, যাঁরা এবারও ভোটে লড়ার টিকিট পেয়েছেন, তাঁদের সম্পত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সেই তালিকায় তৃণমূল, বিজেপি এমমন্ত্রী নির্দল প্রার্থীও রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি কমেছে সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী ফিরলোন বেগমের।
প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালে ফিরদৌসির যেখানে সম্পত্তি ছিল ৬ কোটি ২৬ লক্ষ ৬৭হাজার ৭৭৮ টাকা। আর এবার জমা দেওার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সেই সাম্পদ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৫০ টাকা। মানে ৩৭ হাজার ৭২৮ টাকা। শতাংশের হিসাবে এ৪ শতাংশ হাবড়ায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সম্পত্তিও কমেছে প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। শতাংশের হিসাবে ৫২ শতাংশ।
তৃণমূলের পাথরপ্রতিমা কেন্দ্রের প্রার্থী সমীরকুমার জানার গত বছরের তুলনায় সম্পত্তি কমেছে ৪০ শতাংশ। বিধায়ক হওয়ার পর কৃষ্ণনগর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাসের সম্পত্তি কমেছে ১৮ শতাংশ। এছাড়াও নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে-র সম্পত্তি কমেছে ১৩ শতাংশ। গোসাবার তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সম্পত্তিও কমেছে ৩৫ শতাংশ। এরা প্রত্যেকেই ২০২১ সালে বিধনসভা নির্বাচনে জিতে বিষায়ক হন। শুধু তৃণমূলের বিধায়কদেরই যে সম্পত্তি কমেছে তেমনটা নয়।
ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার কালিম্পংয়ের প্রার্থী রুদেন সাধা লেপন্ন গত নির্বাচনে নির্দল হিসাবে জিতেছিলেন। তাঁর সম্পত্তিও কমেছে প্রায় ৬ কোটির বেশি। শ্যাশের হিসাবে ৩৪ শতাংশ। সুরি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ইমানি বিশ্বাসের সম্পত্তি কমেছে এক কোটি টাকা মতো। সম্পত্তি কমেছে রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল সৌমিক হোসেন এবং ময়নার বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্দার।
গঙ্গারামপুরের বিজেপি প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের সম্পত্তি কমেছে ৭৪ শতাংশ। রতুয়ার তৃণমূল প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায়েরও কনেছে সম্পত্তি। এছাড়া আরও জনারিনেক প্রার্থীর সম্পত্তি কমেছে গতবার বিধায়ক হওয়ার পর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনীতিতে সবই সম্ভব। যেমন সম্ভব সম্পদ কমে যাওয়াটাও। তবে এই সম্পদ যাওয়ার কোনও ব্যাখ্যা নেই কারও কাছেই।
