তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছেন আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। ক্যানিং পূর্বে প্রার্থীও হয়েছেন তিনি। এবার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভায় তাঁকে 'আবর্জনা' বলে বিঁধলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সঙ্গে বিজেপি ও আইএসএফকে এই সারিতে বসিয়ে বিঁধে বললেন, "যাঁকে বা যাঁদের তৃণমূল বহিষ্কার করে তাঁদেরই দলে নেয় বিজেপি ও আইএসএফ।" পাশাপাশি তৃণমূল সরকার ভাঙড়ে কী কী উন্নতি করেছে সেই তালিকাও তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার ভাঙড়ের প্রার্থী শওকত মোল্লা ও ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী মহম্মদ বাহারুল ইসলামের সমর্থনে কাটাতলায় সভা করেন অভিষেক। সভা থেকে ভাঙড়ে আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁকে আবর্জনা বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, "যাঁদেরকে তৃণমূল বহিষ্কার করে আইএসএফ তাঁদেরকেই প্রার্থী করে। বিজেপিও তাঁদের সম্পদ বলে মনে করে। তৃণমূলে যাঁদের ছুড়ে ফেলে দেয় বিজেপি ও আইএসএফ তাঁদেরকেই সম্পদ করে মাথায় রাখে।"
আইএসএফের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা নিয়ে আরবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি জানান, যে আরাবুলের উপর আইএসএফের কর্মীদের উপর মারধরের অভিযোগ রয়েছে, সেই আরাবুল এখন আইএসএফের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নওশাদকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, "এক লক্ষ জবকার্ডের টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। কিন্তু তা নিয়ে নওশাদ কখনও বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। আমরা ক্ষমতায় আসলে এই এলাকার মানুষের আরও উন্নয়ন হবে। আমি ডায়মন্ড হারবার ও ভাঙড়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখি না। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ৬২০০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের মতো ভাঙড়ে সেবাশ্রয় চালু করা হবে।" ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে শুধুমাত্র ভাঙড়ে হেরেছিল তৃণমূল। এবার তাই আইএসএফকে পরাজিত করে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ৩১-০ করার ডাক দিয়েছেন অভিষেক।
বিজেপি ও আইএসএফকে আক্রমণের পাশাপাশি ভাঙড় জুড়ে তৃণমূলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি। অভিষেক জানান, ভাঙড়ে ২১ হাজার ও ক্যানিং পূর্বে ১৫ হাজার যুবক-যুবতী যুবসাথীর সাহায্য পাচ্ছেন। ৩২ হাজার বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ভাঙড়ে ৪৪ ও ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে ৭২ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। শুধু তাই নয় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে মাতলা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
অভিষেকের দাবি, এই সেতু ক্যানিং পূর্ব ও ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্রকে যুক্ত করেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম দু'টো ব্লকের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে বলে দাবি তাঁর। নিকাশি ব্যবস্থা থেকে প্রসূতি মায়ের চিকিৎসার কথাও উল্লেখ করেছেন অভিষেক। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৩ বছরের মধ্যে ভাঙড়ে পঞ্চাশ হাজার মানুষের নতুন ঘর করে দেওয়া হবে।
