কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা থেকে ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের বাসে হামলার অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তুফানগঞ্জের মারুগঞ্জ ও দেওচড়াই এলাকা। রবিবার রাতে বিজেপি কর্মীদের উপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পালটা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ বিজেপি সমর্থকদের।
রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে জনসভা করেন নরেন্দ্র মোদির। সেই সভা থেকেই বাড়ির দিকে ফিরছিলেন তুফানগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ, তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের মারুগঞ্জ এলাকায় বাস পৌঁছতেই অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। বেশ কিছু গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাদের হস্তক্ষেপে আটকে পড়া গাড়িগুলো উদ্ধার করা হয়। মারুগঞ্জের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেওচড়াই মোড়ের টোল গেট সংলগ্ন এলাকা। অভিযোগ, সেখানে বিজেপি কর্মীদের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর ঢিল ছোড়া হয়। এরপরই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা।
তবে বিজেপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকশিবির। কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ তন্ত্রী বলেন, "বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রবিবার সন্ধেয় নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে মারুগঞ্জ এলাকায় তৃণমূলের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল।" তাঁর অভিযোগ, "সেই মিছিলকে টার্গেট করে ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিজেপি কর্মীদের গাড়ি থামিয়ে মিছিলে হামলার চেষ্টা করেন।"
তিনি আরও দাবি করেন, "গত সাড়ে তিন বছর ধরে মারুগঞ্জ এলাকায় কোনো রাজনৈতিক অশান্তি হয়নি। শান্ত মারুগঞ্জকে অশান্ত করতে বিজেপিই প্ররোচনা দিচ্ছে। আমরা পুরো ঘটনার ভিডিও করেছি এবং বিধায়ক দীপক বর্মনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি।" এই ঘটনার পর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সকাল থেকে এলাকার পরিবেশ কার্যত থমথমে।
