কংগ্রেসেও প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ। ভোটের (WB Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পর অন্যান্য রাজনৈতিক দল রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। অবশেষে রবিবার দীর্ঘ টালবাহানার পর রাজ্যের ২৮৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কংগ্রেস। আর সোমবারই বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে চলে এল দলের গোষ্ঠীকোন্দল। এদিন কলকাতার বিধান ভবনে কংগ্রেস নেতা জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। বালিগঞ্জ আসনে সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্রকে প্রার্থী করায় বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
আমতা, বাগনান, শ্যামপুর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, উলুবেড়িয়া পূর্ব সহ একাধিক আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস রাজনীতিবিদ অসিত মিত্রও এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও মন্তেশ্বর, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর ও খণ্ডঘোষ আসনে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের কারণে পূর্ব বর্ধমান জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মূল গেটের তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, 'বহিরাগত' প্রার্থী বদলানোর দাবিতে ফালাকাটা ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। দলের দুই পক্ষের মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক বচসা হয়। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, যে দলের চাহিদা বেশি সেখানে এরকম বিক্ষোভ হতেই পারে। দলের সিদ্ধান্ত সকলকে মেনে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
পূর্ব বর্ধমানের বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ, মন্তেশ্বর, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর ও খণ্ডঘোষ আসনে যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁরা সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস বা ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণে এই সব আসনের প্রার্থী বদলের দাবিতে জেলা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ। জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অবিলম্বে এই সব প্রার্থীদের সরিয়ে প্রকৃত নেতাদের টিকিট দেওয়ার দাবি তুলেছেন কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। প্রার্থী পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এই ঘটনায় স্থানীয় নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে।
দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের জানিয়েছেন, বহুবছর ধরে বালিগঞ্জে রাজনীতি করছেন জাহিদ। রাহুল গান্ধির সম্মেলনে বলা হয়েছিল জেলা সভাপতিরা যে নাম পাঠাবেন তাঁকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। কিন্তু তা না করে শিয়ালদহ অঞ্চলে রাজনীতি করা সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি এখন বলে বেড়াচ্ছেন, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি থাকে। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর কোনও অবদান নেই। এরকম একজনকে প্রার্থী করা যায় না বলে দাবি করেছেন বিধান ভবনে আসা বিক্ষুব্ধরা। প্রদীপের কথায়, "সোমেন মিত্রের ছবি নিয়ে রাজনীতি হয় না, ভোট তো হয়ই না। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কাছে অনুরোধ এই প্রার্থী প্রত্যাহার করুন।"
দলের সিনিয়র নেত্রী মায়া ঘোষের দিকে আঙুল তুলে বিক্ষোভ জাহিদের।
অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা আসন থেকে অবসরপ্রাপ্ত হাইস্কুল শিক্ষক অক্ষয়কুমার বর্মনকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। এই প্রার্থীকে পছন্দ না হওয়ায় সোমবার ফালাকাটার কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মীরা। এই নিয়ে দুই পক্ষের চরম বচসাও হয়। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, কোচবিহার থেকে এনে অক্ষয়কুমারকে ফালাকাটায় দাঁড় করানো হয়েছে। এই ঘটনায় এক বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মী বলেন, "পার্টি অফিসে বসে আলোচনা করছিলাম। সেই সময় বাইরে থেকে কয়েকজন এসে হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে চেয়ার ভাঙা হয়েছে। আমরা বহিরাগত প্রার্থীকে মানি না। এই প্রার্থীকে বদলানো না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করব। বহিরাগত প্রার্থীকে আমরা প্রচার করতে দেব না।"
