ভোট তখনও শুরু হয়নি। বুথের সামনে ভোটকর্মীদের আনাগোনা। ইতিউতি দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভোটাররা। তারই মাঝে ভোটের লাইনে হাজির 'রামলাল'। ঝাড়গ্রামের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সামনে হুলুস্থূল কাণ্ড। দাঁতালের দাপট সামাল দিতে বিশেষ বন্দোবস্ত কমিশনের।
রামলালের স্বভাব অন্যান্য হাতির চেয়ে অনেকটা আলাদা। হাতিটি বেশিরভাগ সময় একে গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরে-ঘুরে খাবারের সন্ধান করে। গ্রামের মানুষজনেরা হাতিটি ভালোবেসে বাড়ি থেকে ধান, সবজি, আম, কাঁঠাল-সহ অন্যান্য খাবার দেন। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার পাশাপাশি পাশের রাজ্য ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে অবাধে যাতায়াত রয়েছে তার। প্রথম দফার ভোটের দিনও দুলকি চালে হাঁটতে বেরয় সে। সোজা পৌঁছয় ভোটকেন্দ্রের সামনে। একটি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে উঁকিঝুঁকিও দেয় সে। রামলালকে দেখতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে ভিড় জমান অনেকেই। এদিকে খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছন লোধাশুলি রেঞ্জের বনকর্মীরা। রামলালকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে নির্বিঘ্নে চলছে জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটাভুটি।
জঙ্গলমহলের দিকে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত নতুন নয়। প্রায়শয়ই হাতির আনাগোনায় বিব্রত হন সাধারণ মানুষ। যদিও সমস্যা মেটাতে বহু নতুন নতুন পরিকল্পনা করেছে বনদপ্তর। তা প্রয়োগের চেষ্টা হয়েছে। কখনও সফল, কখনও ব্যর্থ হয়েছে সেসব পরিকল্পনা। উল্লেখযোগ্যভাবে সাফল্যের মুখ দেখেছে পুরুলিয়া, সুন্দরবন বনবিভাগ। এবারও জঙ্গলমহলে ভোট নির্বিঘ্নে করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বনদপ্তর।
হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে 'ঐরাবত' গাড়ি-সহ ১৫ জনের দল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলাজুড়ে রয়েছে 'এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম'। অভিজ্ঞ হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়ে 'কুইক রেসপন্স টিম' গঠন করা হয়েছে। ওই দলের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টাই প্রায় সক্রিয়। এছাড়া বনদপ্তরের কর্মীরা বুথকর্মীদের ফোন নম্বর দিয়ে রেখেছেন। কোনও সমস্যা হলেই যাতে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়। ভোট শেষে ইভিএম নিরাপদ স্থানে না পৌঁছনো পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম ও খড়্গপুরের বনকর্মী এবং ২৫টি গাড়ি হাতির আনাগোনার দিকে তীক্ষ্ম নজরদারি চালাচ্ছেন।
