বঙ্গে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অন্তত ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন। বাদ পড়েছে ৬৩ লক্ষের কমবেশি ভোটার। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য নির্ধারণের ভার বিচারপতিদের উপর। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। সেই কাজ শেষের পর অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু ভোট ঘোষণা হয়ে গেলেও এখনও একটিও অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি। আর তাতেই অশনি সংকেত দেখছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, ''অতিরিক্ত তালিকা এখনও দিতে পারেনি। ইচ্ছা করেই সময় নষ্ট করছে। একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নাম বাদ দিয়েছে। অবশ্য বহু হিন্দু, মতুয়া, রাজবংশীর নামও বাদে দেওয়া হয়েছে।''
শুক্রবার দলীয় ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে তাঁর আশঙ্কা, ''অতিরিক্ত তালিকা এখনও দিতে পারেনি। ইচ্ছা করেই সময় নষ্ট করছে। একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নাম বাদ দিয়েছে। অবশ্য বহু হিন্দু, মতুয়া, রাজবংশীর নামও বাদে দেওয়া হয়েছে।'' এ প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে ১০ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে, ২২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশনের অবশ্য দাবি, ধাপে ধাপে সকলের নামেরই নিষ্পত্তি হচ্ছে। শুক্রবারই অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এনিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে আলোচনা হয়, ইদের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ওইদিন তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখা হোক।
এই পরিস্থিতিতে কবে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হবে, তাতে কতজনের নাম থাকবে, কত বাদ পড়বে, এসব নিয়ে চিন্তা কাটছে না ভোটারদের। তার মধ্যেই তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বিচারাধীনদের থেকে আরও ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে। একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে রাজ্যের দু, একটি জেলা থেকে বাদ বেশিরভাগ ভোটারের নাম 'কোপে' পড়েছে। আর এর নেপথ্যে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
