এসআইআর আবহে সোমবার বিকেলে পুরুলিয়া থেকে ফিরেই সিইও দপ্তরে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আচমকা সিইও দপ্তরে যাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে কথা হয় তাঁর। ঠিক কী কথা হয়েছিল দু'জনের, মঙ্গলবার চন্দ্রকোণার সভামঞ্চ থেকে তা স্পষ্ট করলেন তৃণমূলনেত্রী।
অভিষেকের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে মমতা বলেন, "আমি বললাম, কী হয়েছে বাবু? বলল দিদি তুমি জানো না ৩০ হাজার ফর্ম জমা দিয়েছে নতুন করে। আমি বললাম সে কী? "
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিষেককে বলেন, "আমি বললাম, কী হয়েছে বাবু? বলল দিদি তুমি জানো না ৩০ হাজার ফর্ম জমা দিয়েছে নতুন করে। আমি বললাম সে কী? এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছে। আরও বাকি আছে। ৪২ লক্ষ ছাড়াও, ৬০ লক্ষের মধ্যে আরও ১৮ লক্ষ নাম তোলা হল না। আর নতুন করে বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে নাম এনে ঢোকাচ্ছে।"
বলে রাখা ভালো, সোমবার সিইও-কে অভিষেক চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, "আপনি আপনার দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করুন। ৩০ হাজার ফর্ম সিক্স জমা পড়েছে। কমিশনের নিয়মমেনে ৩০ হাজার ফর্ম সিক্স জমা দিতে ৬০০ জনকে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।" অভিষেকের চ্যালেঞ্জের কোনও জবাব দিতে পারেননি সিইও মনোজ আগরওয়াল।
সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এদিন প্রচারমঞ্চে সভা থেকে মমতা বহিরাগতদের বাংলায় ঢুকিয়ে ভোটের হিসাবে গরমিল করার আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন, "বিহারে যেভাবে ট্রেনে করে নিয়ে এসে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল, এখানেও খড়গপুর, আসানসোলে সেভাবে ভোট করাবে। আপনাদের ভোট দখল করবে। তাই সবাইকে বলব লক্ষ্য রাখুন কোথায় কী হচ্ছে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি যাদের নাম জমা দিয়েছে তারা বাংলার কেউ নয়। বিদেশি।" বাংলার মানুষের 'হয়রানি' প্রসঙ্গে মমতা বলেন, "আমার কষ্ট হচ্ছে। বুকে যন্ত্রণা হচ্ছে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের জন্য।" এদিন নির্বাচন কমিশনকে ফের একটি কড়া চিঠিও লেখেন মমতা।
