পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। এই অভিযোগ জানিয়ে মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জ্ঞানেশ কুমারের নাম না নিয়ে, 'ডিয়ার সিইও' সম্বোধন। চিঠিতে মমতা লেখেন, 'বাংলার ভোটার তালিকায় ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম অন্তর্ভক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তা হলে তা অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক কাজ'। কমিশনকে 'নিরপেক্ষ'ভাবে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে মমতা উল্লেখ করেন, 'বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলায় প্রচুর ফর্ম-৬ জমা দিচ্ছেন বিজেপি এজেন্টরা। ভোটার তালিকায় নাম তোলার রুটিন প্রক্রিয়া অনুযায়ী যা বৈধ নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং রাজ্যের বাসিন্দা নন, এমন ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর অপচেষ্টা চলছে'।
প্রসঙ্গত, এই অভিযোগ তুলে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কলকাতার দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, "বস্তা ভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনে ঢুকেছিলেন কয়েকজন। আর তা কমিশনের দপ্তরেই পেটি করে করে রাখা হয়েছে। ৬-৭ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ অবৈধভাবে জমা পড়েছে। যাঁদের বিহার, উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন ভোটারের নামে এই ফর্ম ৬ জমা পড়েছে।" সোমবার সিইও দফতরের বাইরে দাঁড়িয়েই কমিশনকে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করারও চ্যালেঞ্জ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই একই অভিযোগেই এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, 'নির্বাচন কমিশনের এই কার্যকলাপ খুবই উদ্বেগের। যার ফলে বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এসআরআর প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছেন। ২০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন'। এদিন সরকারি তরফে নয়, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী হিসেবেই জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
