বিধানসভা হোক বা পঞ্চায়েত ভোট, অতীতের ছবি বলছে, ভোট (West Bengal Assembly Election) ফিরলেই ভাঙড়ের (Bhangar) বাতাসে মেশে বারুদের গন্ধ। একুশের বিধানসভা ভোট এবং ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়ের নাম। ছবিটা বদলে যায়নি পঞ্চায়েত ভোটেও। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত গুলি-বোমায় তটস্থ ছিল ভাঙড়ের ভূমি। নির্বাচনের পরেও বার বার খবরের শিরোনামে উঠে আসে ভাঙড়। অশান্তি রুখতে ভাঙড়কে কলকাতা পুলিশের আওতায় নিয়ে আসা হয়। সেই 'ভয়ের ভাঙড়'-এ সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন বলে এবার দাবি করলেন নওশাদ সিদ্দিকী (Nawsad Siddique)। এসআইআর ইস্যুতে এই মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার পাণ্ডবেশ্বরের জনসভায় সিপিএম প্রার্থী প্রবীর মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত সভা থেকে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, এসআইআর নিয়ে অন্যান্য বিধানসভার মানুষ যখন আতঙ্কে রয়েছেন তখন ভাঙড়ের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। নওশাদের এই বক্তব্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হিংসার ঘটনায় সবসময়ই এগিয়ে থাকে এই এলাকা। সেখানে কীভাবে নওশাদ 'নিশ্চিন্তে ঘুম' মন্তব্যটি করলেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ ভাঙড়ে বিবেচনাধীন থাকা ২ হাজার জনের বেশি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। এই আবহে নওশাদের এরকম মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিন নওশাদ বলেন, "এসআইআর নিয়ে অন্যান্য বিধানসভার মানুষ যখন আতঙ্কে আছে তখন ভাঙড়ের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। তাঁরা ভালো করে জানেন, নওশাদ সিদ্দিকীকে জিতিয়েছিলাম। তাঁদের বিপদে আমি সবসময় পাশে থাকি। তেমনি ফর্ম পূরণ করে দিই। আর যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী দিয়ে তাঁদের নাম ফিরিয়ে আনার লড়াই করছি। আর যদি আপনারা পাণ্ডবেশ্বরে এইরকম একজন মানুষ চান, যে আপনাদের পাশে থাকবে, বিপদে-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তাহলে প্রবীর মণ্ডলকে ভোট দিন।"
উল্লেখ্য, ভাঙড় বিধানসভার ২৯৮০৭ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। তার মধ্যে ২ হাজার ১৮৩ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। নাগরিকত্ব প্রমাণে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছেন।
