বিজেপির সঙ্গে 'ডিল' সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিতে (এজেইউপি) একের পর এক ভাঙন। এবার কালীগঞ্জে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের উপস্থিতিতে দলে তৃণমূলে যোগদান করলেন এজেইউপির একাধিক নেতৃত্ব। মঙ্গলবার বিকেলে কালীগঞ্জ ব্লকের বড় চাঁদ ঘরের লালদিঘির ধারে এই যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) দল ছেড়ে একাধিক প্রভাবশালী নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করেন।
তৃণমূলের যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ, কৃষ্ণনগর উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মহুয়া মৈত্র, কালীগঞ্জ ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখার্জি, শেফালী খাতুন, সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান সহ একাধিক জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব। তাঁদের হাত থেকেই দলীয় পতাকা তুলে নেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির লোকজন। ফুল দিয়ে যোগদানকারীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। যে নেতারা যোগদান করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমির হোসেন (ব্লক সভাপতি), ইউসুফ শেখ ওরফে আহানাবি শেখ (যুব সভাপতি), ওয়াসিম রাজ শেখ (যুব সহ-সভাপতি) এবং ফজলুল হক (আঞ্চল সভাপতি, প্লাসি ১ গ্রাম পঞ্চায়েত)। স্থানীয় রাজনীতিতে এই সব নেতাদের প্রভাব যথেষ্ট বেশি বলেই জানা গিয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রার্থী আলিফা আহমেদ বলেন, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে। তৃণমূল কংগ্রেসই মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে বলেই অন্য দল থেকে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্র বলেন, এই যোগদান কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং জনসমর্থনের প্রতিফলন। জেলায় তৃণমূলের পক্ষে জনমত বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের দলবদল শুধুমাত্র সংখ্যাগত নয়, সংগঠনগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্লক ও যুব নেতৃত্বের একযোগে যোগদান তৃণমূলের সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এদিকে নির্বাচনের আগে এই যোগদান বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিবর্তন আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
